কাজী নাজমুল ইসলাম: ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুহাটগুলো জমে উঠতে শুরম্ন করেছে। এবারও কুরবানিতে প্রাধান্য পাবে স্থানিয় খামারে পালিত দেশি জাতের গরম্ন-ছাগল। রাজশাহীতে এবার চাহিদার চেয়ে প্রায় ৭০ হাজার বেশি কুরবানির পশু থাকায় দাম নাগালের মধ্যে থাকবে বলে জানান সংশিস্নষ্টরা।
প্রাণীসম্পদ বিভাগ ও খামারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবারও রাজশাহীর খামারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমানে গবাদিপশু লালন পালন করা হচ্ছে। গো-খাদ্যের দাম বেশি থাকায় এবার খামারীদের খরচ একটু বেশি পড়ছে। যারফলে গতবারের তুলনায় এবার গরম্ন-ছাগলের দাম একটু বেশি পড়বে বলে জানান তারা।
গতবছর রাজশাহীতে চাহিদার চেয়ে কুরবানির পশুর পরিমান বেশি ছিল। যে কারনে শেষের দিকে এসে অনেক খামারীকে লোকসান দিয়ে পশু বিক্রি করতে হয়েছে। এরকম বেশকিছু খামারী লোকসানের কারনে এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। যারা অধিক খরচ করে খামার টিকিয়ে রেখেছেন, তারা এবার লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন কিনা এই দুশ্চিনত্মায় রয়েছেন।
রাজশাহীতে কুরবানির বড় পশুহাটগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরীর সিটি হাট, নওহাটা, কাটাখালি, মহিষালবাড়ি, কাকনহাট, মচমইল, কেশরহাট, বানেশ্বর হাট। খোজ নিয়ে জানা গেছে, এই হাটগুলোর কয়েকটিতে ইতিমধ্যে কুরবানির পশু উঠতে শুরম্ন করেছে। তবে বেচাকেনা সেভাবে শুরম্ন হয়নি। অন্যহাটগুলো জমিয়ে তুলতে হাট ইজারাদাররা প্রস্তুতি নিতে শুরম্ন করেছেন।
সিটি হাটের গরম্ন ব্যবসায়ীরা বলেন, মাংসের বাজার হিসাবে কোরবানির গরম্নর দাম কমই রয়েছে। তারা বলেন, ছোট আকৃতির গরম্ন এখন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় মিলছে, মাঝারি আকৃতির গরম্নর দাম ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে এবং বড় গরম্ন ৯০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, কয়েক মাস হলো ভারত থেকে গরম্ন আসা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ঈদ উপলড়্গে রাজশাহীসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন খামার থেকে কোরবানির গরম্ন আসতে শুরম্ন করেছে। তবে এখনও দাঁতালো (কোরবানির উপযোগী) গরম্নর সংখ্যা কম। এতে বেচাকেনা শুরম্ন হলেও জমে ওঠেনি। বেশিরভাগ ক্রেতা হাটে এসে দরদাম হাঁকিয়ে কোরবানির বাজার বোঝার চেষ্টা করছেন। যাদের বাসায় গরম্ন রাখার জায়গা আছে কেবল তারাই এখন দামে সুবিধা হলে গরম্ন কিনে নিয়ে চলে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও সিটি হাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপাত্তায় বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রড়্গাকারী বাহিনী। হাটে পশু চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া হাটে জাল টাকা শনাক্তের জন্যও মেশিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে হাটে কোরবানির পশু কেনাবেচা জমজমাট হয়ে উঠবে বলে মনে করেন তিনি।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অনিত্মম কুমার সরকার জানান, জেলার ৯ উপজেলায় ১৭ হাজার ৭শ খামার রয়েছে। যেখানে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭৪ কোরবানির পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে গরম্ন ৭৮ হাজার ১৩, মহিষ দুই হাজার ১৭৫, ছাগল ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫ ও ভেড়া ১৩ হাজার ৬৭৫। রাজশাহীতে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮২৪ টি। এরমধ্যে গরম্ন ৫৮ হাজার ৬১৩ টি, ছাগল ২ লাখ ২৭ হাজার ৬৮০ টি, ভেড়া ১২ হাজার ৫শ’ ও মহিশ ২ হাজার। এখানে পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬৬ হাজার ৭৫০টি। ফলে এখানে কোরবানির জন্য বাইরের পশুর প্রয়োজন হবেনা। গতবছর এখানে ৩ লাখের কিছু কম পশু কোরবানি হয়েছে। এবারও এখানে স্থানিয় খামারের পশু দিয়েই তা করা যাবে বলে জানান তিনি।