গুজবে কান দেবেন না বলা হলেও মানুষ শুধু কানই দেয় না, হুজুগে মেতে ওঠে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনির ঘটনাই এর প্রমাণ। গণপিটুনির নির্মমতার শিকার প্রায় সবাই নিরীহ নারী-পুরম্নষ। এর পেছনে কে বা কারা দায়ী সে বিতর্কেরও শেষ নেই।
বন্যার পানির মতই ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা ছড়িয়ে পড়ছে। রাজশাহীতে একটি স্থানীয় কোম্পানির তৈরি চিপস বাজারজাত করতে গিয়ে গণপিটুনি খেয়েছেন তিন জন। তারা চিপস খেতে দিয়েছিলেন স্কুলের শিশুদের। ছেলেধরা সন্দেহে স্থানীয় লোকজন তাদের পিটুনি দেয়, গাড়ি ভাঙচুর করে। নওগাঁর মান্দায় ছেলেধরা সন্দেহে ছয় মৎস্যজীবী গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। নাটোরে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেয়ার সময় এক যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজশাহীর তানোরে একই কারণে দুই যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী। গোদাগাড়ীতে ছেলেধরা সন্দেহে মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা।
রাজধানী ঢাকায় শিশু কন্যাকে স্কুলে ভর্তি করার বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে প্রধান শিড়্গকের কড়্গ থেকে বের করে নিয়ে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে এক মানসিকভাবে অসুস্থ নারীর। তার অসংলগ্ন কথাবার্তায় ছেলেধরার সন্দেহ ছড়িয়ে পড়েছিল। এমন সন্দেহ, আর গুজবেই গণপিটুনির শিকার হতে হচ্ছে নিরীহ মানুষকে।
এবারের গণপিটুনির শুরম্নতে পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে, এমন গুজব ছড়িয়েছে। এর পেছনে কোনো দুরভিসন্ধি কাজ করেছে কি-না সেটা খুঁজে দেখার বিষয়। গুজব ছড়ানোর বিরম্নদ্ধে প্রচারণা সত্ত্বেও কেন ছেলেধরা আতঙ্ক সৃষ্টি হলো সেটাও ভেবে দেখতে হবে।
তবে গবেষকরা এমন ঘটনার বিশেস্নষণ করতে গিয়ে মানুষের প্রাক-মনসত্মাত্ত্বিক প্রস্তুতির কথা বলেছেন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি মানুষের মনে অনাস্থার জন্ম হলেও সন্দেহ বা আতঙ্কগ্রসত্ম হয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিতে উৎসাহ জেগে ওঠা অস্বাভাবিক নয়। অপরাধীদের বিচার ও শাসিত্ম না হলেও অনাস্থা থেকে আইন হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। মূল্যবোধের অবড়্গয়ের কথাও বলেছেন তারা। এসব নিয়ে চিনত্মাভাবনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
আর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে কেউ ফায়দা লুটতে চাইছে কি-না সেটাও খুঁজে দেখতে হবে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিরম্নদ্ধে দাঁড়াতে হবে সবাইকেই। গুজব না ছড়িয়ে, হুজুগে না মেতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আইন-শৃঙ্খলা রড়্গাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। আইন হাতে তুলে নেয়ার অসুস্থ প্রবণতা পরিহার করতে হবে। এ নিয়ে প্রচারণা ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। যেভাবেই হোক গণপিটুনি বন্ধ করতে হবে অবিলম্বেই।