মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় ছেলেধরা সন্দেহে ছয়জন মৎস্যজীবী গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কুসম্বা ইউনিয়নের বুড়িদহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
এরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার খাগড়া গ্রামের ছকিমুদ্দীনের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৭), রফাত আলী ম-লের ছেলে তাসলাম হোসেন (২৩), ভোলা ম-লের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৮), মোবারক আকন্দের ছেলে আব্দুল মজিদ আকন্দ (৩৭) ও মনসের আলীর ছেলে আনিসুর রহমান (২৭) এবং ফারাদপুর গ্রামের মন্টুর ছেলে রেজাউল করিম (২৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটমাছ ধরার জন্য পুকুর মালিক সনজিৎ চৌধুরী ৬ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে আসেন। চুক্তি ছিল পুকুর মালিক নিবেন মাছের ৭০ শতাংশ এবং মৎস্যজীবীরা ৩০ শতাংশ। এ শর্তে সকাল থেকে ৬ জন মৎস্যজীবী পুকুরে মাছ ধরছিলেন। এ সময় মৎস্যজীবীরা বেশ কয়েকটি বড় কাতল মাছ গোপনে বসত্মার মধ্যে রেখে দেন। পরে পুকুর মালিক বিষয়টি বুঝতে পারেন। সনজিৎ চৌধুরী বসত্মা দেখতে চাইলে মৎস্যজীবীরা দেখাতে রাজি হচ্ছিলেন না। এক সময় তারা দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এতেই ঘটে বিপত্তি। এলাকার লোকজন ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার দিয়ে তাদের ধরে গণপিটুনি দেন। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, ছেলেধরা বিষয়টি গুজব। বাসত্মবে তারা নিরীহ মৎস্যজীবী। মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। মাছ শিকারের জালসহ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেয়া হবে বলেও জানান ওসি।