মোহাম্মদ মাসুদ: চারিদিকে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু’’র প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু সংক্রামিত-এর প্রধান কারণ হচ্ছে, জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব, জমে থাকা বৃষ্টির পানি, জলাবদ্ধতা এবং পরিচ্ছন্নতার অভাব। মূলত বর্ষার সময় এ রোগ বেশি দেখা দেয়। অন্যান্য জ্বরের মত বাড়িতে এ রোগের নিরাময় করা সম্ভব। এর রোগের প্রধান ওষুধ প্যারাসিটামল। তবে পরিস্থিতি খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই মশা মানুষকে কামড়ানোর ৩ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ দেখা দেয়। এ রোগের সাধারণ উপসর্গ হলো, অন্য ভাইরাস জ্বরের তুলনায় শরীরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যনত্ম তাপমাত্রা উঠতে পারে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জহিরম্নল হক বলেন, ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুতে জ্বরের সঙ্গে সর্দি-কাশি হতে পারে। জ্বর বেশি হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরপর প্যারাসিটামল খাওয়াতে হবে। ১০২ এর ওপরে জ্বর হলে প্যারাসিটামল সাপোজিটার ব্যবহার করতে হবে। প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোন ব্যথার ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। কারণ ব্যথানাশক ওষুধ খেলে রক্তড়্গরণ হতে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। প্যারাসিটামল জ্বর এবং শরীর ব্যথায় কার্যকর ওষুধ। সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ডেঙ্গু রোগ সেরে যায়।
ডা.জহিরম্নল বলেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ হচ্ছে, বিরামহীন মাথা ব্যথা হাড় ও হাড়ের জোড়, পেশীতে তীব্র ব্যথা, বমি ভাব, বমি হওয়া, গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, সারা শরীরে রাশ দেখা দেয়া, চোখের পেছনে ব্যথা করা ইত্যাদি। ডেঙ্গুতে আক্রানত্ম হলে বিশেষ করে শিশুদের ড়্গেত্রে পানি শূন্যতা ও খাওয়ার রম্নচি কমে যায়। এ কারণে শিশুদের বেশি বেশি করে তরল খাবার, পানি, বুকের দুধ, ডাবের পানি, স্যালাইন, ঘরে তৈরি জুস, লেবুর সরবত খাওয়াতে হবে।
ডা. জহিরম্নল হক আরও বলেন, কিছু কিছু রোগীর ড়্গেত্রে পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম বলা হয়। হেমোরেজিক ফিভারের উপসর্গে এক ধরনের রোগীদের রক্তপাত ঘটে। আবার অনেক রোগী সরাসরি শকে চলে যেতে পারে। এঙটেনডেট ডেঙ্গু শক সিনড্রম ঝুঁকিপূর্ণ। এ সকল রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের উপসর্গ হলো, শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃস্পন্দনের গতি বেড়ে যাওয়া ত্বক শীতল হয়ে যাওয়া, ত্বকের ভেতরে রক্তড়্গরণে ত্বকের ওপর লাল ছোপ দেখা দেয়। এছাড়াও বমি, মল অথবা প্রসাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, প্রচ- পেটব্যথা ও অনবরত বমি হওয়া, নাক ও দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তড়্গরণ এবং অবসাদ ভাব লাগা। আবার কখনো মসিত্মষ্কের ভেতর রক্তড়্গরণ হতে পারে। এ অবস্থা দেখা দিলে রোগীকে দ্রম্নত হাসপাতালে নিতে হবে।
এক জরিপে দেখা গেছে, জমে থাকা বৃষ্টির পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, পস্নাস্টিকের ড্রাম, বালতি, ক্যান, আধুনিক নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব এবং খোলা ট্যাঙ্কি এডিস মশার উৎপত্তি স্থল। সাধারণ মানুষ সচেতন হলে এবং বাড়ির আশে-পাশে ঝোঁপঝঁড়, জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গু হতে নিরাপদ থাকা সম্ভব।
সম্প্রতি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রানত্ম হয়ে ৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।