স্টাফ রিপোর্টার: কোরবানির ঈদের আগে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন সীমানত্ম দিয়ে প্রতিবছর প্রচুর ভারতীয় গরম্ন আসে। কিন্তু এবার এ অঞ্চলের অসাধু কিছু ব্যবসায়ী জাল রম্নপি দিয়ে সেসব গরম্ন কিনতে চান। এ জন্য তাদের চাহিদামতো জাল রম্নপিও তৈরি শুরম্ন হয়েছে। জাল রম্নপি তৈরির এমন একটি চক্রকে গ্রেপ্তারও করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ১০ লাখ জাল রম্নপি এবং নানা সরঞ্জাম।
গতকাল রোববার দুপুরে রাজশাহী নগরীর রামচন্দ্রপুর বৌ বাজার সংলগ্ন একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব ওই কারখানার সন্ধান পায়। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাল রম্নপি তৈরির আরও কারখানা রয়েছে বলে তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে। তারা চক্রগুলোকে আটকের চেষ্টা করছেন। এছাড়া এসব জাল নোটের যারা ক্রেতা তাদেরকেও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
রাজশাহীতে র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- নাটোর সদর উপজেলার গুগলবাড়ি গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৫০), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আরামবাগ গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রম্নবেল ইসলাম (২১) ও শিবগঞ্জ উপজেলা সদরের শাহবুদ্দিন মিয়ার ছেলে মোখলেছুর রহমান (২৪)। সম্প্রতি তারা বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল। বাড়ির মালিকের নাম নূর মিয়া। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এই তিনজনের বিরম্নদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
র‌্যাব-৫ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সাঈদ আব্দুলস্নাহ আল মুরাদ জানান, জাল নোটের কারখানা থাকার খবরে রাত ২টা থেকে নূর মিয়ার বাড়ি গোয়েন্দা নজরদারিতে নেয়া হয়। নিশ্চিত হওয়ার পর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে র‌্যাবের একটি দল বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়িতে তলস্নাশি করে ১০ লাখ ২৬ হাজার জাল রম্নপি ও জাল রম্নপি তৈরির নানা সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। এ সময় বাড়ি থেকে জাল রম্নপি তৈরির এই তিন কারিগরকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, রম্নবেল গত বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাল রম্নপিসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল। জামিনে মুক্তি পেয়ে দুই মাস আগে সে রাজশাহীতে বাসা ভাড়া নিয়ে আবার একই কাজ শুরম্ন করে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তারা জাল রম্নপি তৈরি করছিল বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।
এর আগে এদিকে গত ১৯ মার্চ রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল কাটাখালি থানার দেওয়ানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আট লাখ জাল টাকাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেদিন দুই বাড়ি থেকে ৬০ লাখ ভারতীয় জাল রম্নপি জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় জাল রম্নপির দুই কারিগরকেও। এদের মধ্যে রাজশাহীতে গ্রেপ্তার হওয়া দরদুজ্জামান বিশ্বাস ওরফে জামান (৫৭) দেশে টাকা জালচক্রের মূলহোতা। ১৯৮৮ সাল থেকে জাল টাকা এবং ভারতীয় জাল রম্নপি তৈরির এই কারিগর বরাবরই থাকেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘মোস্ট ওয়ানটেড’ তালিকায়। জামান বার বার গ্রেপ্তার হন, আবার জামিনে বেরিয়ে এসে জাল টাকা ও রম্নপি তৈরিতে জড়িয়ে পড়েন। তার জাল রম্নপি যায় গরম্ন ব্যবসায়ীদের কাছে।
র‌্যাব-৫ এর কর্মকর্তা সাঈদ আব্দুলস্নাহ আল মুরাদ বলেন, কোরবানির ঈদের আগেই জাল রম্নপি তৈরির চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এক লাখ জাল রম্নপি গরম্ন ব্যবসায়ীদের দিয়ে থাকে। গরম্ন ব্যবসায়ীরা সেসব জাল নোট দিয়ে সীমানত্ম থেকে গরম্ন কিনে আনে। অসাধু গরম্ন ব্যবসায়ীরাই জাল রম্নপির কারিগরদের কাছ থেকে এসব নোট সংগ্রহ করতে আগে থেকেই অর্ডার দিয়ে থাকে।
তবে এ ব্যাপারে র‌্যাবের গোয়েন্দারা কাজ করছে উলেস্নখ করে তিনি বলেন, সর্বশেষ রাজশাহী থেকে তিনজনকে আটকের পর তাদের কাছেই জানতে পেরেছি যে আরও একাধিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রম্নতই আইনের আওতায় আনা হবে। এর পাশাপাশি যারা এসব জাল নোটের ক্রেতা তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা থাকবে বলেও জানান তিনি।