স্টাফ রিপোর্টার: বোরো চাষিদের ধানের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে রাজশাহীতে দু’দফায় মোট ৫ হাজার ৩৬৫ মেট্রিকটন ধান কিনছে সরকার। এছাড়াও কেনা হচ্ছে ১১ হাজার ২৮১ মেট্রিকটন সেদ্ধ এবং ১ হাজার ১২০ মেট্রিকটন আতব চাল এবং ৩ হাজার ২৭ মেট্রিকটন গম। এই ধান-চাল-গম সংগ্রহ অভিযান চলবে ৩১ আগস্ট পর্যনত্ম।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে চাষিদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে ১০ লাখ মেট্রিকটন সেদ্ধ চাল সংগ্রহ অভিযান শুরম্ন করেছে। এছাড়াও কেনা হচ্ছে দেড় লাখ মেট্রিকটন আতব চাল এবং দেড় লাখ মেট্রিকটন ধান। এরমধ্যে রাজশাহী জেলায় কেনা শুরম্ন হয় ১১ হাজার ২৮১ মেট্রিকটন সেদ্ধ চাল, ১ হাজার ১২০ মেট্রিকটন আতব চাল ও ২ হাজার ১২ মেট্রিকটন ধান। পরবর্তীতে এসে সরকার চাষিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ধান সংগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এতে রাজশাহী থেকে দ্বিতীয় দফায় আরও ৩ হাজার ৩৫৩ মেট্রিকটন ধান কেনার সিদ্ধানত্ম হয়। এখন রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার চাষিদের কাছ থেকে দু’দফায় মোট ৫ হাজার ৩৬৫ মেট্রিকটন ধান কিনছে সরকার।
খাদ্য অধিদপ্তর রাজশাহী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলছে। এই মৌসুমে জেলায় কৃষকদের কাছে থেকে ধান ও চুক্তিবদ্ধ মিলারদের কাছ থেকে আতব ও সেদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। চুক্তিবদ্ধ মিলারদের কাছে থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে সেদ্ধ চাল ও ৩৫ টাকা কেজি দরে আতব চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া ২৬ টাকা কেজি দরে কৃষকের নিকট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে ধান। এ সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যনত্ম।
এদিকে রাজশাহীর বিভিন্ন হাট বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে বোরো মৌসুমের ধান বিক্রি করে চাষিরা লাভ করতে পারছেন না। গতকাল প্রতিমণ (৪০ কেজি) ধান রকম ভেদে ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই অবস্থায় সরকার ধান-চাল সংগ্রহ শুরম্ন করায় ধানের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরম্ন করেছে। পবার কর্ণহার বড়বিলা পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চাষি নূরম্নল আমিন সিদ্দিকী বলেন, ধান-চালের দাম কমে যাওয়ায় তার এলাকার বোরো চাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছিল। এই অবস্থায় সরকার ধান-চাল কেনা শুরম্ন করায় ধানের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরম্ন করেছে।
রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভুইয়া জানান, সরকারি সিদ্ধানত্ম অনুযায়ি বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তা মনিটরিং করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্য কর্মকর্তাগণ। এ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যনত্ম।