দেশের প্রধান তিনটি নদী যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও পদ্মায় অব্যাহত পানি বৃদ্ধি ও বাঁধ ভেঙে উত্তরাঞ্চলের পর মধ্যাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে শুরম্ন করেছে। এসব নদী তীরবর্তী জেলাগুলোর লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্গত মানুষের সাথে সাথে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। ১৭টি জেলায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বাড়ছে বন্যার বিসত্মৃতি।
রাজশাহীতেও পদ্মায় পানি বাড়ছে। এদিকে নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ থেকে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙে নতুন নতুন এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়ছে। নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙে গেছে। মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর চকবাল (বনকুড়া) নামক স্থানে বাঁধ ভেঙে প্রায় ২২টি গ্রাম পস্নাবিত হয়েছে। আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধ ভেঙেছে বলে ধারণা এলাকাবাসীর। এই নদীর পানির স্রোতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার পানাউলস্নাহ খালের বখতারপুর ব্রিজ ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর ছোট যমুনা নদীর বেড়িবাঁধটি নির্মাণের ৪০ বছরেও কোনো সংস্কার না হওয়ায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল আগে থেকেই । যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জ শহর রড়্গা বাঁধে ফাটল দেখা দেয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে শহর জুড়ে।
নদীর দেশে বন্যা স্বাভাবিক হলেও প্রতি বছরই মানুষের দুর্গতি ও ড়্গয়ড়্গতির সীমা থাকে না। এর একটা কারণ সময় থাকতে শহর রড়্গা ও বেড়ি বাঁধগুলো সংস্কার না করা। ব্রিজ-কালভার্টগুলো নজরদারিতে থাকলেও এভাবে ভেঙে পড়া এড়ানো কঠিন হতো না। তবে নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি এবার সামনে এসেছে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালের বন্যার চেয়ে ব্রহ্মপুত্রে উজান থেকে এবার পানি তুলনামূলক কম এলেও ডুবেছে বেশি এলাকা। নদীর তলদেশ উঁচু ও শাখা নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই অবস্থা বলে সংশিস্নষ্ট মহলের ধারণা। এ কারণেই জামালপুরের বাহাদুরাবাদে ব্রহ্মপুত্রের পানির উচ্চতা ১০০ বছরের মধ্যে এবার সর্বোচ্চ। একই কারণে উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বন্যার পানি বৃদ্ধি ১৯৮৮ সালের বন্যাকে হার মানিয়েছে। যদিও সে তুলনায় উজানের ঢল পরিমাণে কম।
এড়্গেত্রে পরিষ্কার, বন্যার পেছনে শুধু প্রাকৃতিক নয়, মানুষ সৃষ্ট কারণও আছে। যদি নদ-নদীগুলো নিয়মিত খনন করে নাব্যতা বজায় রাখা গুরম্নত্ব পেত তবে বন্যার বিসত্মার ও ড়্গয়ড়্গতি সহনীয় রাখা অসম্ভব হতো না। নদী তীরের বাঁধগুলো ঠিকমতো নজরদারিতে থাকলে, প্রয়োজনমতো সংস্কার করা হলে বন্যা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠতো না। এ সব দিকে আশু দৃষ্টি দেওয়া অপরিহার্য।
এখন দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা সুষ্ঠু ও জোরদার করা দরকার। পর্যাপ্ত খাদ্য, জ্বালানি, পানীয়ের পাশাপাশি আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করাও জরম্নরি। এসব বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব প্রধান হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একানত্ম কাম্য।