স্টাফ রিপোর্টার: নদীতে নৌকা তো চলবেই। কিন্তু রাজশাহীর পদ্মা নদীতে এই নৌকা ভ্রমণ হয়ে উঠেছে অত্যনত্ম ঝুঁকিপূর্ণ। ঘটছে দুর্ঘটনাও। কিন্তু পুলিশ-প্রশাসনের কোনো কথা শুনছেন না মাঝিরা। সময়-অসময়ে নিরাপত্তার কথা না ভেবেই তারা ভরা পদ্মায় এখন নৌকা ভাসাচ্ছেন। অবশ্য এ নিয়ে তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও নজির নেই।
রাজশাহী মহানগরীর পাশ দিয়ে বহমান পদ্মা নদীর অনত্মত ৮টি পয়েন্টে বিভিন্ন ধরনের নৌকায় যাত্রী বোঝায় করে নিয়ে যাচ্ছে মাঝিরা। তাদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের পড়্গ থেকে বিভিন্ন রকমের নির্দেশনা থাকলেও কিছুই মানছেন না তারা। সব নৌকায় থাকছে না লাইফ জ্যাকেট। এমনকি সন্ধ্যা ৬টার পর নৌকা না ছাড়ার জন্য নৌ পুলিশের নির্দেশনা থাকলেও কেউ মানছেন না। মাঝিদের অনেকেই আবার কিশোর। সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে ট্রলারের মাঝিরা। এদের কোনভাবেই মানাতে পারছে না পুলিশ।
গতকাল শনিবার নগরীর মুক্তমঞ্চ ও টি-বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীদের কোন রকম নিরাপত্তার কথা না ভেবেই ছুটে চলছে এসব নৌকা। কোনো কোনো নৌকায় নামমাত্র কিছু লাইফ জ্যাকেট থাকলেও সেগুলো পরানো হয় না যাত্রীদের। অবশ্য এ জন্য যাত্রীরাই দায়ী বলে দাবি মাঝিদের। এদিকে দিন দিন উত্তাল হয়ে উঠছে পদ্মা। গতকাল নদীতে পানির উচ্চতা ছিলো ১৫ দশমিক ৮৬ মিটার।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌকা ভ্রমণের সময় গত ১৪ জুলাই বিকেলে দুই তরম্নণী নদীতে পড়ে যান। তাদের সঙ্গে পড়ে নৌকায় থাকা বেঞ্চও। ওই বেঞ্চ আঁকড়ে ধরে তারা প্রাণে বাঁচেন। এমন ঘটনা ঘটেছে গতকাল শনিবারও। শেষ পর্যনত্ম তারাও উদ্ধার হয়েছেন। কিন্তু এমন ঝুঁকি আর কত দিন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতনমহল।
স্থানীয়রা জানান, মাঝে মধ্যেই এরকম ঘটনা ঘটে থাকে। মাঝে মাঝেই নৌকা থেকে মানুষ নদীতে পড়ে যায়। কিন্তু তারপরও কোন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়েই এসব নৌকা চলছে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক বলেন, টি-বাঁধ এলাকায় নদীতে প্রচ- বেগে ঢেউ হয়। এতে নৌকা ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু মাঝিরা কথা শোনে না।
রাজশাহী নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, দুই নারী নদীতে পড়ার পর থেকেই আমরা সচেতন হয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের পড়্গ থেকে মাঝিদের জন্য কিছু বাধা-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু কেউ কথা শুনছেন না। নিয়ন্ত্রিত সময়সূচি মানছেন না নৌকায় ভ্রমণপিপাসুরাও। এ নিয়ে আমরাও বেশ বিপাকে পড়েছি। তিনি বলেন, আমাদের লোকবল মাত্র আট জন। তাই আমাদের পড়্গে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।