সোনালী ডেস্ক: নওগাঁ, নাটোর ও সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এ ৩ জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও ব্রিজ ভেঙে আরও নতুন নতুন এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষ। বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। অবশ্য বগুড়ার আদমদিঘি নতুন নতুন এলাকা পস্নাবিত হলেও যমুনা তীরবর্তী ধুনট, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
নওগাঁ ও রাণীনগর প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর আত্রাই ও ছোট যমুনানদীর বাঁধ ভেঙে কমপড়্গে ২৫টি গ্রাম পস্নাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বুধবার ভোর রাতে মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর চকবালু (বনকুড়া) নামক স্থানে বাঁধ ভেঙে প্রায় ২২টি গ্রাম পস্নাবিত হওয়ার পর শুক্রবার ভোরে রাণীনগরে নান্দাইবাড়ী-মালঞ্চি নামক স্থানে ছোট যমুনানদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙে ৩টি গ্রাম পস্নাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৮ শ পরিবারের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। মালঞ্চি গ্রামের নওগাঁ-আত্রাই আঞ্চলিক সড়কের ২টি কালভাটের নিচ দিয়ে প্রবল বেগে বন্যার পানি প্রবেশ করছে। এতে আত্রাই, রাণীনগর, বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার ফসলি জমির মাঠসহ বিসত্মীর্ণ এলাকা পস্নাবিত হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে বাঁধ ভেঙে নান্দাইবাড়ী-মালঞ্চি ও কৃষ্ণপুর গ্রামের বিসিত্মর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে পস্নাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে বাড়িঘরসহ সবজি খেত। বন্যার পানিতে বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় ভোগানিত্মতে পড়েছে ৩টি গ্রামের মানুষ। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে আসবাবপত্র ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। গোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত খান হাসান বলেন, এলাকার ছোট যমুনা নদীর নান্দাইবাড়ি, মালঞ্চি, কৃষ্ণপুর ও আত্রাই উপজেলার ফুলবাড়ি বেরিবাঁধটি নির্মিত হওয়ার পর থেকে অভিভাবকহীন। ৪০ বছর ধরে কোন দপ্তর কোনদিন এই বাঁধটি সংস্কার করেনি। এমনকি এই বাঁধটিকে কোন দপ্তরই স্বীকার করে না। এ কারণে সংস্কার ও উন্নয়নের কোন প্রকারের ছোঁয়া এই বাঁধে কখনো স্পর্শ করেনি। ফলশ্রম্নতিতে বাঁধটি দীর্ঘদিন যাবত চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এ অবস্থায় শুক্রবার বাঁধটির মালঞ্চি এলাকার কিছু অংশ ভেঙে গেছে। এতে করে নদীর তীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম পানিতে পস্নাবিত হয়ে গেছে। আশঙকা করা হচ্ছে বন্যার কারণে এই এলাকা পুকুর ও শতাধিক হেক্টর জমির সবজির আবাদ পানিতে তলিয়ে যাবে। এছাড়াও নওগাঁ-আত্রাই সড়কের বেশ কিছু জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেইসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় স্থানীয়রা রড়্গা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহীদুল ইসলাম বলেন, ভেঙে যাওয়া অংশে নদীর পানিতে তেমন গতি না থাকায় বন্যাকবলিত এলাকা ছাড়া অন্যান্য ফসলের তেমন উলেস্নখযোগ্য ড়্গতি হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পস্নাবিত ৩টি গ্রামের সবজির আবাদ ও পুকুর বন্যার পানিতে পস্নাবিত হয়েছে। কৃষি অফিসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ছুটি বাতিল করে বন্যা কবলিত এলাকায় সার্বড়্গণিক থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, আমরা ড়্গতিগ্রসত্ম পরিবারের সংখ্যা ও ড়্গতির পরিমাণ নিরূপুণ করে তাদের জন্য সহায়তা হিসেবে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করার পদড়্গেপ গ্রহণ করেছি। এছাড়াও ভেঙে যাওয়া অংশ বাঁধার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ বাঁধটি পরিদর্শন করে পরবর্তি পদড়্গেপ গ্রহণ করবেন।

এদিকে মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর চকবালু (বনকুড়া) নামক স্থানে বাঁধ ভেঙে প্রায় ২২টি গ্রাম পস্নাবিত হয়েছে। বুধবার ভোরে বাঁধটি ভেঙে যায়। আত্রাই নদীর পানি বিপদ সীমার ৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই বাঁধ ভেঙেছে বলে স্থানীয়রা ও প্রশাসন জানিয়েছেন। উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গত মঙ্গলবার থেকেই নদীর পানি বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বুধবার ভোরে বাঁধের ২০০ ফিট অংশ ভেঙে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রোববার সন্ধ্যা থেকে আত্রাই নদীর ৩০ পয়েন্টে বাঁধে ফাটল দেখা দিলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা- কর্মচারিদের দেখা যায়নি। এর ফলে এই ভাঙন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গভীর রাতে নদীর ডানতীরে মূল বাঁধে ফাটল দেখা দেয়। স্থানীয়রা প্রায় ৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফাটল অংশে বালুর বসত্মা ও মাটি ফেলেও ভাঙন রড়্গা করতে পারেনি। দ্রম্নতই নদীর পানি ঢুকে পড়ছে বসতি এলাকা ও ফসলের মাঠে। এরই মধ্যে মান্দা উপজেলার বনকুড়া, চকবালু, ভরট্ট, শিবনগর, দাসপাড়া, শহরবাড়ি, কর্ণভাগ, পারশিমলা, মহলা কালুপাড়াসহ অনত্মত ৫০ টি গ্রামের পা্রয় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে আশেপাশের ফসলের মাঠ, আমন ধানের ফসল ও সবজি খেত। ক্রমেই নতুন নতুন গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। মান্দা ছাড়াও পাশের আত্রাই, রাণীনগর উপজেলার বিসত্মীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ড়্গতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারিভাবে এ পর্যনত্ম ১০০টি পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল, ২ কেজি করে চিনি ও মোমবাতি দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম বলে জানান বানভাসী মানুষ। মান্দা উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম ফারম্নক জানান, প্রাথমিকভাবে ৮ শ ২৯ হেক্টর আউশ, ৬০ হেক্টর আমন এবং ৭ শ ৫০ হেক্টর শাকসবজি বন্যায় তলিয়ে গেছে। পানির চাপ বাড়তে থাকলে আরো ফসল নিমজ্জিত হবে।
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, আাত্রাই নদীর পানির স্রোতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার পানাউলস্নাহ খালের বখতারপুর ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। শুক্রবার সকালে হঠাৎ ব্রিজটির এক পাশ হেলে পড়ে যায়। পরে দুপুরে পানির তোড়ে ব্রিজটি ভেঙে গেলে উপজেলা সদরের সাথে বখতারপুর, গোবিন্দনগর, বারোইহাটি, ডাকমন্ডবসহ অনত্মত ২০টি গ্রামের প্রায় কুড়ি হাজার লোকের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদ ও এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের জন্য আশির দশকে শেরকোল-বখতারপুর এই ব্রিজটি নির্মিত হয়। আর এই ব্রিজটি অত্যনত্ম সরু এবং ইটের তৈরি। তাছাড়া আত্রাই নদী থেকে ঐতিহ্যবাহী হালতি বিলের মধ্যে পানি প্রবেশের একমাত্র এই বখতারপুর ব্রিজ। হঠাৎ ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় ওই রাসত্মায় চলাচলাকারিরা বিপাকে পড়ে। শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবিব রুবেল বলেন, ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার খরব পেয়ে ছুটে এসেছি। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের পরামর্শক্রমে বন্যা কবলিত লোকদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। নাটোর এলজিডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী তাজমিল খান বলেন, বখতারপুর ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় আপাতত সেখানে একটি বাঁশের সাকো তৈরি করা হবে। আর বন্যা পরবর্তীতে নতুন করে পরিকল্পনা দেয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্ট এলাকায় ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা পস্নাবিত হওয়ায় প্রায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের ১৮১টি গ্রাম ড়্গতিগ্রসত্ম হয়েছে। এসব গ্রামের ২১ হাজার ৩৬২টি পরিবার আংশিক ও এক লাখ ১৬ হাজার ৮১০ জন মানুষ আংশিক ড়্গতিগ্রসত্ম হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যনত্ম ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক হাজার ৮৬টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ২১ হাজার ৫২৬টি ঘরবাড়ি আংশিক ড়্গতিগ্রসত্ম হয়েছে। ড়্গতিগ্রসত্ম এসব মানুষ উঁচু বাঁধ, শিড়্গা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিচ্ছে। জেলার চৌহালী উপজেলায় পাঁচটি শিড়্গাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ এবং সদর উপজেলায় ২১টি, কাজীপুরে একটি, চৌহালীতে ছয়টিসহ মোট ২৮টি শিড়্গাপ্রতিষ্ঠান আংশিক ড়্গতিগ্রসত্ম হয়েছে। এ ছাড়া সাড়ে তিন কিলোমিটার রাসত্মা সম্পূর্ণ ও ২০৯ দশমিক ১৭ কিলোমিটার রাসত্মা আংশিক ড়্গতিগ্রসত্ম হয়েছে। আর আংশিক ড়্গতিগ্রসত্ম হয়েছে ১৪ কিলোমিটার বাঁধ। ৩৫৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১১ হাজার ৬০৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। কাজীপুরে ১২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ১৬৬টি শিড়্গাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীতে বিলীন হয়েছে আরো পাঁচটি শিড়্গাপ্রতিষ্ঠান।
এদিকে যমুনার শাখা নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, এনায়েতপুর, শাহজাদপুরে নতুন নতুন এলাকা পস্ন্লাবিত হচ্ছে। এরই মধ্যে বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরম্ন করেছে জেলা প্রশাসন।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল হক জানান, সদরে এক হাজার ১০০ হেক্টর, কাজীপুরে দুই হাজার ৩৭০, বেলকুচিতে এক হাজার ৪৮, চৌহালীতে ২৮০, শাহজাদপুরে ৪৫১, রায়গঞ্জে ৬৯, কামারখন্দে ৮ ও উলস্ন্লাপাড়ায় এক হাজার ৮১ হেক্টর জমির পাট, রোপা আমন, আউশ ও সবজির খেত তলিয়ে গেছে। সিরাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন জানান, বন্যাদুর্গতদের জন্য ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যনত্ম ৩৫৩.৩ টন চাল, পাঁচ লাখ টাকা ও তিন হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মজুদ রয়েছে ৩৪৬.৭ টন চাল ও তিন লাখ টাকা। আরও ৫ লাখ টাকা, ৫০০ টন চাল ও চার হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ শহর রড়্গা বাঁধের হার্ডপয়েন্ট এলাকায় ফাটল দেখা দেয়ার খবরে শহরবাসীর মধ্যে আতঙক ছড়িয়ে পড়েছে। যে কোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে শহর ও শহরতলীর গ্রামগুলোতে বন্যার পানি ঢুকতে পারে বলে আশঙকা করা হচ্ছে। তবে এসব আশঙকা উড়িয়ে দিয়ে শহরবাসীকে আতঙিকত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে যমুনা নদীর শহর রড়্গা বাঁধের হেড টি পয়েন্ট এলাকায় কিছুটা দেবে গিয়ে দুটি বস্নকের মাঝখানে ফাটল দেখা দেয়। নদীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকায় সবসময় তীব্র স্রোত থাকে। সৃষ্ট ফাটলের পরিধি বেড়ে যে কোন মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আতঙেক রয়েছেন স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, সিরাজগঞ্জ শহর রড়্গা বাঁধটি কেপিআইভুক্ত এলাকা। এ বাঁধটি রড়্গণাবেড়্গণ করা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। হার্ডপয়েন্ট এলাকায় যমুনার প্রবল স্রোত থাকায় বাঁধের লাঞ্চিং এপ্রোনে গিয়ে আঘাত করে। এতে দু’টি বস্নকের মাঝখানে একটি গ্যাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এ কারণে সকাল থেকেই সেখানে সিসি বস্নক ডাম্পিং করা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে আতঙেকর কিছু নেই।
এদিকে শুক্রবার দুপুরের দিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (ডিজাইন) মোতাহার হোসেন, ঘাটাইল সেনানিবাসের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহম্মেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের সব সরঞ্জামাদি প্রসত্মুত রয়েছে। বাঁধের কোনো সমস্যা হলে তাৎড়্গণিক সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। এটি নিয়ে সিরাজগঞ্জবাসীকে তিনি আতঙিকত না হওয়ার আহবান জানিয়েছেন ।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, জেলার আদমদিঘিতে নতুন নতুন এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ফসলি জমি পস্নাবিত হয়েছে। তবে জেলার যমুনা তীরবর্তী ধুনট, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুট উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৪ সে.মি. পানি কমে যুনার পানি এখন বিপদসীমার ১২৪ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাতি হচ্ছে। এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।