আলিউল ইসলাম অলি, সাঁথিয়া (পাবনা) থেকে: পাবনার সাঁথিয়ায় ৫ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। প্রতি বছরই এই সাঁকোটি ভেঙে যায় আর গ্রামবাসীপ্রতিবারই চাঁদা তুলে পূুনঃনির্মাণ করেন। স্বাধীনতার পর থেকে এভাবেই চলছে তাদের দিনের পর দিন। দেখার যেন কেউ নেই।
সূত্রে জানা যায়, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বড়াল নদীর শাখা বলেশ্বর নদীটি চিনিনাড়ী-বিলকলমী’র উপর দিয়ে বয়ে গেছে। প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে ওই নদীর উপর গ্রামবাসী চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে এলাকার নলভাঙা, চিনিনাড়ী সেলন্দা, চরাচেথুলিয়া বিলকলমী, খামার সানিলাসহ অন্তত ৬টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পারাপার হয়। এমনকি আশপাশের স্কুল-কলেজের শিৰার্থীরা প্রায় ১ শ ফুট দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চিনিনাড়ী দাখিল মাদরাসা, বিলকলমী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার্শ্ববর্তী বেড়া আল হেরা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বেড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ, সাঁথিয়া সরকারি কলেজ, বাঘাবাড়ী, শাহজাদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাতায়াত করে। ফলে প্রায়ই ঘটে কোন না কোন দুর্ঘটনা। কৃষকেদের কৃষিপণ্য পারাপারের জন্য একমাত্র ভরসা ওই একটিমাত্র বাঁশের সাঁকো। নইলে অনেক দূর ঘুরে মাটির রাস্তা দিয়ে তাদের যেতে হয়। আশপাশের বিভিন্ন হাট বাজারে যেতে কৃষিপণ্য ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। এলাকাবাসীর বহুদিনের দাবি এখানে একটি ব্রিজের। তারা জানায়, ওখানে একটি ব্রিজ হলে শুধু এলাকারই উন্নয়ন নয় সাঁথিয়া, শাহজাদপুর ও বেড়া উপজেলার এবং পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের সাথে সহজেই যোগাযোগ সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে নাগডেমড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নাগডেমড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশিদ জানান, ওখানে একটি ব্রিজ হওয়া দরকার। এতে করে ৪/৫টি গ্রামের মানুষের গ্রাম ও শহরের সাথে খুব সহজেই যোযোগের উন্নয়ন হবে। আমি সংশিৱষ্ট দপ্তরের কথা বলে অতি দ্র্বত একটি ব্রিজের ব্যবস’া করবো, ইনশালৱাহ। উপজেলা স’ানীয় সরকার প্রকৌশলী শহিদুলৱাহ জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরেই ওই প্রত্যন্ত এলাকাকে সড়ক, ব্রিজের উন্নয়ন করে শহরে পরিণত করবো যা দৃশ্যমান হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণ করার জন্য।