সোনালী ডেস্ক: সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সিরাজগঞ্জে বিপদসীমার ৯১ সে.মি. ও বগুড়ায় ১২৮ সে.মি. ওপর দিয়ে যমুনার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার ৮ উপজেলার ২ লড়্গাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির ফলে যমুনা নদীর পানি বেড়ে সিরাজগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের ৯০০টি গ্রাম পস্নাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লড়্গাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে রাসত্মাঘাট ও ফসলি জমি। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, যমুনার পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এ পর্যনত্ম কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার পাঁচটি উপজেলার ৯ শ ৩৬টি গ্রাম পস্নাবিত হয়ে ২১ হাজার ৫ শ ৫২ পরিবারের লড়্গাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যা কবলিতদের বিতরণের জন্য ৪ শ ৯৪ টন চাল ও ৮ লাখ টাকা মজুদ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। সরেজমিনে দেখা যায়, পানিবন্দি মানুষ গবাদি পশু আর আসবাপত্র নিয়ে বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে ঝুপড়ি ঘর তুলে রাত যাপন করছেন তারা। এছাড়া পানি উঠে পড়ায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর-ধুনট সড়ক দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তলিয়ে গেছে অনেক ফসলি জমি। সিরাজগঞ্জ কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) হাবিবুল হক বলেন, জেলার প্রায় ৬ হাজার ৪ শ হেক্টর জমির পাট, রোপা আমন, আউশ ও সবজির খেতে পানি উঠেছে। তবে এখনো ড়্গয়ড়্গতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনানদীর পানির প্রবল স্রোতে কাজীপুর উপজেলা পরিষদের নির্মিত রিং বাঁধের অনত্মত ৬০ মিটার এলাকা ধসে নতুন নতুন এলাকা ও শিড়্গা প্রতিষ্ঠান পস্নাবিত হচ্ছে। তিনি বলেন, বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নয়। এটি কাজীপুর উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছিল। এই মুহূর্তে সেটি মেরামত করা সম্ভব না। আমাদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এখন পর্যনত্ম ঠিক রয়েছে। কোন সমস্যা নেই। কাজীপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, পানি কমে গেলে ড়্গতিগ্রসত্ম বাঁধটি মেরামত করা হবে।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি সর্বকালের সকল রের্কড ভেঙে বিপদ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদ সীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ৫০ বছরে যমুনা নদীতে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহের এটি একটি রের্কড এমনটি জানিয়েছে স্থানীয় পানি উন্নযন বোর্ড (পাউবো)। যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্তের কারণে জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এখন হুমকির মুখে। অনেক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁেধ গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয়রা জিও বসত্মা ফেলে এবং পাইলিং করে বাঁধের ড়্গতিগ্রসত্ম স্থান মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে পানির লেভেল আরও বেড়ে গেলে বাঁধ রড়্গা করা দুরূহ হবে এমনটা আশংকা নদীপাড়ের মানুষদের ।
এদিকে, অব্যাহতভাবে বানের পানি ঢুকে পড়ায় প্রতিদিন পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের জমির ফসল। পস্নাবিত হচ্ছে ঘড়-বাড়ি, শিড়্গা প্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজার। এরই মধ্যে শতাধিক শিড়্গা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তলিয়ে গেছে আশ্রয় কেন্দ্র। ধুনটে যমুনার প্রবল চাপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একাধিক পয়েন্ট দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টায় সারিয়কান্দি পয়েন্টে যযুনার পানি বেড়ে বিপদসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্র স্রোত এখন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্বাংশে আঘাত করছে। ফলে প্রায় ৪৫ কি.মিটার বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার ধুনট, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলায় লড়্গাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
সারিয়াকান্দিতে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি মাপার দায়িতে থাকা আব্দুল হামিদ জানান, এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। তিনি জানান, বগুড়ার ৩ উপজেলায় যমুনা নদীর তীরে ৪৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে সোনাতলা উপজেলার পাকুল্যা, ছাতিয়ানতলা, সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ও কামালপুর এবং ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি, বানিয়াজান ও কৈয়াগাড়ি এলাকায় বাঁধের বিভিন্ন অংশ দিয়ে ১৬ জুলাই রাত থেকে পানি চুইয়ে ঢুকতে শুরু করে। পানি আটকাতে বাঁধের ড়্গতিগ্রসত্ম অংশে বালুর বসত্মা ফেলা শুরু হয়েছে। একই সাথে বাশের পাইলিং করা হচ্ছে। এ ব্যপারে স্থানীয় পাউবো এবং স্থানীয়রা এগিয়ে এসেছে।
তবে বগুড়া পাউবোর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও আতঙিকত হওয়ার কিছু নেই। ঝুঁকি মোকাবিলা করতে সব ধরনের প্রসত্মুতি রয়েছে।