এইচএসসি ও সমমানের পরীড়্গায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিড়্গার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। গত বছরের ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশের স্থানে এবারে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। বেড়েছে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিড়্গার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৮ হাজার ২৪ জন। রাজশাহী শিড়্গা বোর্ডেও পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুইই বেড়েছে।
পাসের হারে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এবারও এগিয়ে রয়েছে। এ বছর ছাত্রীদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ আর ছাত্রদের ৭১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার ড়্গেত্রে ছাত্রীদের চেয়ে ছাত্ররা এগিয়ে। আটটি শিড়্গা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ হাজার ৭৬৭ ছাত্র আর ছাত্রী ২০ হাজার ৪০ জন। জিপিএ-৫ এর প্রায় ৮০ শতাংশই বিজ্ঞানের শিড়্গার্থী।
রাজশাহী শিড়্গা বোর্ডে গতবারের চেয়ে পাসের হার বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া সংখ্যাও ২ হাজার ৫৯১ জন বেশি। জেলাওয়ারি হিসাবে রাজশাহী জেলায় পাসের হার বেশি, ৮২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এছাড়া বগুড়া ৭৮ দশমিক ০৮, নাটোর ৭২ দশমিক ৯০, সিরাজগঞ্জ ৭১ দশমিক ২৯, পাবনা ৬৯ দশমিক ১৩, জয়পুরহাট ৬৪ দশমিক ৮৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬৪ দশমিক ৪০ ও নওগাঁ জেলায় ৬৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ড়্গেত্রে বগুড়া জেলা বোর্ড সেরা অবস্থান ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে এবারও।
এবার ফলাফল ভালো হওয়ার ড়্গেত্রে ইংরেজিতে পাসের হার বেড়ে যাওয়া ভূমিকা রেখেছে। গতবার এই বিষয়ে খারাপ করায় সার্বিক ফল খারাপ হয়েছিল। ইংরেজিতে পাসের হার গতবারের চেয়ে ৭ শতাংশ বেড়েছে এবার। এছাড়া কুমিলস্না ও যশোর বোর্ডের ফল গতবারের চেয়ে একলাফে বেড়েছে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ। এখানেও কাজ করেছে ইংরেজির ফল। গতবারের চেয়ে প্রশ্নপত্র সহজ হওয়াতেই ইংরেজির ফল ভালো হয়েছে বলে শিড়্গার্থীরা জানিয়েছেন।
টানা দুইবার খারাপ ফলের পর এবার এইচএসসিও সমমানের পরীড়্গায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে পরীড়্গার্থীর সংখ্যাবৃদ্ধি ছাড়াও ইংরেজির পাশাপাশি আইসিটিতে ভালো ফল ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া খাতা দেখার নতুন পদ্ধতিও প্রভাব ফেলেছে। তারপরও ৪১টি শিড়্গা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিড়্গার্থী পাস করতে পারেনি এবারও। অন্যদিকে ৯০৯টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীড়্গার্থীই পাস করেছে। এর পাশাপাশি খুশির খবর হলো, অন্য বছরের মতো এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। অর্থাৎ পরীড়্গা পদ্ধতির উন্নতি হয়েছে বলা যায়।
তরপরও শতভাগ ফেল করা শিড়্গা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মানসম্পন্ন শিড়্গক নিয়োগেও বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে। যোগ্য শিড়্গক ও পরিকল্পিত শিড়্গা ব্যবস্থার ওপরেই যে শিড়্গার মান নির্ভর করে সেটা না বললেও চলে।
তবে এইচএসসিতে ভালো ফল করা মেধাবী শিড়্গার্থীরাই কেন উচ্চ শিড়্গা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ড়্গেত্রে মুখ থুবড়ে পড়ে সেটাও ভেবে দেখার বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীড়্গায় বেশ কয়েকবছর ধরে বিপুল সংখ্যায় পাস করতে না পারা চিনত্মার বিষয় বৈ কি। তাই এইচএসসির ফলে সার্বিক অগ্রগতি উৎসাহব্যঞ্জক হলেও শিড়্গার মান উন্নয়নে আরও সচেষ্ট হওয়ার বিকল্প নেই।