মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: মান্দায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম পস্নাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে আত্রাই নদীর ডানতীরে উপজেলার কশব ইউনিয়নের চকবালু নামকস্থানে বাঁধটি ভেঙে যায়। এতে অনত্মত অর্ধ লড়্গাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে খেতের ফসল। বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে পূর্বমান্দার সবধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
কয়েক দিনের একটানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আত্রাইনদীর পানি জোতবাজার পয়েন্টে বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে আত্রাই ও ফকিরণী নদীর উভয়তীরে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের অনত্মত ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আত্রাই নদীর ডানতীরে সুজনসখী খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় বাঁধের ভেতর দিয়ে পানি পার হতে থাকে। এসময় স্থানীয় প্রশাসন এলাকাবাসীর সহায়তায় বাঁধটি মেরামত করে টিকিয়ে রাখা হয়েছে।
এদিকে নদীর এ অবস্থায় স্থানীয়রা রাতে পাহারা বসিয়ে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান টিকিয়ে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাত ২টার দিকে জোতবাজার-আত্রাই রাসত্মার চকবালু নামক স্থানে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি পার হতে থাকে। কিনত্মু পানির প্রবল চাপের কারণে বাঁধটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। এরইমধ্যে পানির তোড়ে মান্দা উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ভরট্ট শিবনগর, দাসপাড়া, চকরামপুর, শহরবাড়ি, কর্ণভাগ, পারসিমলা, নহলা কালুপাড়া, আবিদ্যপাড়া, যশোপাড়া, পশ্চিম দুর্গাপুর, শিবপুর, খোর্দ্দ বান্দাইখাড়া ও চককামদেব, নূরুলস্নাবাদ ইউনিয়নের পারনূরুলস্নাবাদ, চকহরি নারায়ণ ও বাকসাবাড়ি কশব ইউনিয়নের বনকুড়া ও দড়্গিণ চকবালু এবং কালিকাপুর ইউনিয়নের বেড়েরটেক গ্রামের বিসত্মীর্ণ এলাকা পস্নাবিত হয়েছে। বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে চকবালু নামকস্থানে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে অর্ধ লড়্গাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়েছে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অন্য স্থানগুলো টিকিয়ে রাখতে দিনরাত কাজ করেছে স্থানীয়রা।
কিনত্মু ভেঙে যাওয়া স্থানটি স্থানীয়দের নজরদারিতে ছিল না। চেয়ারম্যান আরও বলেন, ইতোমধ্যে দুর্গত মানুষের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে ড়্গয়ড়্গতির পরিমাণ জানানো সম্ভব নয় বলে উলেস্নখ করেন তিনি। স্থানীয় আব্দুল জব্বার, নজরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে বলেন, নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে উভয়তীরে অনেক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কিনত্মু নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো লোকজনকে রাসত্মায় পাওয়া যায় না। অনেক সময় নজরে পড়লে মোটরসাইকেলে এসে তাৎড়্গণিক কেটে পড়েন। গত ২৪ ঘণ্টায় পাউবোর কোন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের এ এলাকায় দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ফারুক হোসেন বলেন, এ মুহূর্তে ড়্গয়ড়্গতির পরিমাণ জানা যায়নি। দুর্গত এলাকাগুলোতে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। খুব শিঘ্রই এ বিষয়ে তথ্য জানা যাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণের প্রসত্মুতি চলছে। একই সঙ্গে মোমবাতি, খাবার স্যালাইনসহ অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করা হবে।