সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সিরাজগঞ্জের উলস্ন্লাপাড়ায় সলপ রেলক্রসিং-এ ট্রেন ও বর যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১১ বরযাত্রীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে স্ব-স্ব এলাকায় তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পড়্গ থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবার প্রতি ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছে।
নিহতরা হলেন, নববিবাহিত বর সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাফ ম-লের ছেলে রাজন ম-ল (২৮), তার নব পরিণীতা স্ত্রী উলস্ন্লাপাড়ার এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামের মৃত গফুর শেখের মেয়ে সুমাইয়া (২১), একই গ্রামের আশরাফ আলীর স্ত্রী মমতা (৩৫), সদর উপজেলার রামগাঁতী গ্রামের মৃত আব্দুছ ছালামের ছেলে শফিউল (১৯), একই এলাকার মৃত মশিউর রহমানের ছেলে আব্দুস সামাদ (৪৫), একই গ্রামের শিশু আলিফ (৯), সয়দাবাদ এলাকার নূর আলম (৩৫), সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার দিয়ার ধানগড়া মহলস্নার আলতাফ হোসেনের ছেলে শরীফ (৩২), রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণদিয়ার গ্রামের আলম শেখের ছেলে খোকন (২৪) ও মাইক্রোবাসচালক কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের এলাহী বক্সের ছেলে স্বাধীন মিয়া (৪৫) ও তার সহকারী আহাদ আলী সুজন (২২)।
মঙ্গলবার দুপুরে শহরতলীর কান্দাপাড়া কবরস’ানে নিহত রাজনের বাবা সাংবাদিকদের বলেন, আর যেন কোন পরিবার অরড়্গিত রেলক্রসিং’র কারণে প্রাণ না হারায়। কোন পিতা যেন তার একমাত্র সনত্মাকে হারিয়ে নিঃস্ব না হয়।
সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন মজুমদার বলেন, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাপারা গ্রামের আলতাফ ম-ল তার ছেলে রাজন ম-লের বিয়ের বরযাত্রী নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি সন্ধ্যে পৌনে ৭টার দিকে সিরাজগঞ্জ-রাজশাহী রেলপথের সলপ রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের সংগে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সংগে আটকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে গিয়ে লাইনের উপর পড়ে। এতে বর রাজন ম-ল এবং কনেসহ মাইক্রোবাসের ৯ জন ঘটনাস’লে এবং সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস’ায় আরো ২ জনসহ মোট ১১ জন মারা যান। তিনি আরো জানান, বিধি মোতাবেক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ময়না তদনত্ম ছাড়াই পরিবারের নিকট মৃতদেহগুলো হসত্মানত্মর করা হয়। এঘটনায় রেল পুলিশের পড়্গ থেকে মাইক্রোবাস চালককে অজ্ঞাত দেখিয়ে একটি মামলা করা হয়েছে।
অপরদিকে দুর্ঘটনার পর সোমবার রাতে পাকশী পশ্চিমাঞ্চল বিভাগীয় রেলওয়ে দপ্তর থেকে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদনত্ম কমিটি গঠন করা হয়। তদনত্ম কমিটিতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আবদুলস্ন্লাহ্‌ আল মামুনকে আহবায়ক করে ৪ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তদনত্ম কমিটিতে অন্য সদস্যরা হলেন, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের প্রকৌশলী-২ আরিফুল ইসলাম টুটুল, পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) অশোক রায়, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে মেডিক্যাল অফিসার এস কে রায়। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের প্রকৌশলী-২ আরিফুল ইসলাম টুটুল বলেন, তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদনত্ম কমিটিকে তদনত্ম প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস’াপক মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে এই ঘটনার কারন অনুসন্ধানে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফিরোজ মাহমুদকে আহবায়ক করে জেলা প্রশাসনের পড়্গ থেকে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবার জন্য বলা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন তদনত্ম কমিটি গঠনের কথা স্বীকার করে জানান, নিহত ১১ জনের লাশ পরিবারের হাতে হসত্মানত্মর করা হয়েছে। সেই সাথে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।