সোনালী ডেস্ক: বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা মামলায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে একথা জানান বরগুনার পুলিশ সুপার মারম্নফ হোসেন।
এসপি জানান, সকাল সাড়ে নয়টার পর পুলিশ মিন্নিকে নিয়ে আসে। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যায় তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আগামীকাল বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান এসপি।
রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায় স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির গ্রেপ্তারের দাবিতে গত শনিবার রাতে বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন রিফাতের বাবা। তিনি অভিযোগ করেন, এ হত্যার সঙ্গে মিন্নি জড়িত। পরদিন সকালে ‘বরগুনার সর্বসত্মরের জনগণ’-এর ব্যানারে মানববন্ধনেও মিন্নির গ্রেপ্তার দাবি করা হয়। পরে দুপুরে মিন্নি তার বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, যারা বরগুনায় ‘বন্ড ০০৭’ নামে সন্ত্রাসী গ্রম্নপ সৃষ্টি করিয়েছিলেন, তারা খুবই ক্ষমতাবান এবং অর্থবিত্তশালী। নেপথ্যের এই ক্ষমতাবানেরা বিচারের আওতা থেকে দূরে থাকা ও এই হত্যা মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তার শ্বশুরকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে সংবাদ সম্মেলন করিয়েছেন।
গত ২৬ জুন বরগুনা সরকরি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় মিন্নিও পাশেই ছিলেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রথম দিকে মিন্নি অনেকটা ভাবলেশহীন ছিলেন। পরে অবশ্য রিফাতকে যখন কোপানো শুরম্ন করে সন্ত্রাসীরা তখন তিনি বাঁচানোর চেষ্টা করেন। শুরম্ন থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স’ানে মিন্নির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে।
হত্যাকা-ের পরদিন ২৭ জুন রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এ মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলা দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজীসহ বাকি তিন আসামি এখনো রিমান্ডে আছেন।