সোনালী ডেস্ক: রংপুরবাসীর দাবির মুখে সেখানেই সামরিক মর্যাদায় জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রয়াত চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলের নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পৌনে ৬টার দিকে ‘পলস্নীনিবাসে’র লিচুবাগানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এ সময় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী মো. মোজাম্মেল হক, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, জাপা নেতা জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, আবু হোসেন বাবলাসহ নেতাকর্মীরা উপসি’ত ছিলেন। পলস্নীনিবাসে উপসি’ত ছিলেন হাজার হাজার মানুষ। এ সময় প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানান তারা। অনেকে কান্না করতেও দেখা গেছে। এর আগে বাদ জোহর রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে এরশাদের লাশ ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় এতে বাধা দেন স’ানীয় নেতারা। তারা লাশবাহী গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন। সেখানে জিএম কাদের ও মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এগিয়ে এলে তাদের অবরম্নদ্ধ করে রাখেন স’ানীয় নেতাকর্মীরা। পরে তারা বাধ্য হয়ে সরে গেলে রংপুর সিটি মেয়র মোসত্মাফিজার রহমান মোসত্মফা লাশবাহী গাড়িতে উঠে পড়েন। তিনি বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে লাশ নিয়ে পলস্নীনিবাসে পৌঁছেন। এক পর্যায়ে রংপুরের ‘পলস্নীনিবাসে’ই এরশাদের লাশ দাফনের সিদ্ধানত্ম নেয় জাতীয় পার্টি। এতে সম্মতি দেন প্রয়াত জাপা প্রধানের স্ত্রী রওশন এরশাদও। এই সিদ্ধানেত্মর পর সেখানে পৌঁছান রংপুর সেনানিবাসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
মরদেহের কফিন সেনাবাহিনীতে থাকাকালে এইচএম এরশাদের র‌্যাংক ব্যাজ, ক্যাপ এবং জাতীয় পতাকা-সেনাবাহিনীর পতাকা দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়। দাফনের আগে এরশাদের মরদেহে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে লাশ কবরের পাশে নিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করে আনুষ্ঠানিকতা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। পরে বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয়। রংপুরের হাজারো মানুষ অশ্রম্নসিক্ত চোখে এরশাদকে বিদায় জানিয়েছেন।