এফএনএস: বন্যা হলেও দেশে খাদ্য সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। গতকাল মঙ্গলবার ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিন আয়োজিত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে ওই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো সংকট নেই। আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। শুধু খাদ্যগুদামে না, ত্রাণেও খাদ্য মজুদ আছে। যেকোনো অবস’াকে মোকাবিলা করতে আমরা প্রস’ত আছি। গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঁচ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে অধিবেশনগুলো সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যায় কোনো খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। এখন পর্যনত্ম কোনো ফসল তো লাগানো নাই। বন্যা নেমে গেলে কৃষকরা ধান লাগাবেন। কাজ করার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকেরা কোনো সমস্যার কথা বলেছেন কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তাঁরা কোনো সমস্যার কথা বলেননি। সাধন চন্দ্র আরো বলেন, আমরা আরো চার লাখ টন ধান কিনব। ডিসিরা ধান কেনায় সাহায্য করছেন। এটা আরো জোরদার করার জন্য এবং আমাদের লোকেরা যেন আরো বেশি সহযোগিতা পায়, কৃষকদের কাছ থেকে যেন ধান কিনতে পারে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আরেকটি নির্দেশনা হচ্ছে, প্রতিটি জেলায় আমাদের নিরাপদ খাদ্যের অফিস হবে। সেখান থেকে মানুষ যেন নির্ভেজাল পণ্য গ্রহণ করতে পারে, সে জন্য তাদের আরো কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এদিকে, কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এবারের বোরো মৌসুমে ধানের ভাল ফলন হলেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। ধান কাটার শ্রমিকের অভাব এবং ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে বিভিন্ন এলাকায় ধান ক্ষেতে কৃষকের আগুন লাগানোর ঘটনা সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। পরিসি’তি সামাল দিতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে বলে এর আগেও জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। এবার বোরো মওসুমে চার লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। গতকাল মঙ্গলবার ডিসিদের সঙ্গে আলোচনার পর খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র বলেন, এবার চার লাখ টন ধান কিনব, গতকাল (গত সোমবার) পর্যনত্ম এক লাখ ১৫ হাজার টন ধান কেনা হয়েছে। ওনারা (ডিসিরা) সাহায্য করছেন, সেটা আরও জোরদার করার জন্য এবং আমাদের লোকেরা যাতে আরও বেশি অ্যাকটিভ হয়, ডিসি সাহেবরা যাতে নির্বাহী অফিসারদের মাঠে নামিয়ে দিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে পারে, সেজন্য আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। প্রত্যেক জেলায় নিরাপদ খাদ্যের অফিস হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মানুষ যাতে ভেজালমুক্ত খাবার গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য তাদের আরও কঠোর হওয়ার জন্য আমরা নির্দেশ দিয়েছি। বন্যায় খাদ্য সংকটের আশঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। খাদ্য গুদামে শুধু খাদ্যই নয়, ত্রাণও পর্যাপ্ত মজুদ আছে। যেকোনো অবস’া মোকাবেলা করতে আমরা প্রস’ত আছি। এখন ফসল নষ্ট হওয়ার কোনো অবকাশ নেই, মাঠে কোনো ফসল নেই। এখন ধান লাগানোর সময়।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারম্নক বন্যায় বাঁধ ভাঙনের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, পাশ্বর্বর্তী দেশে যে বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টির পানি নেমে আসছে বাংলাদেশে, ধাবিত হচ্ছে পানিগুলো। পানির পরিমাণ এত বেশি আমাদের নরমাল যে বাঁধ আছে এই বাঁধে কিন’ ঠেকানো যাবে না। বাঁধ রক্ষায় প্রকৌশলীরা দিনরাত কাজ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে ভাঙনের প্রবণতা হচ্ছে সেখানে ইমার্জেন্সি কাজ করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি। বাঁধ ভাঙন রোধে স’ায়ী কোনো সমাধান আসছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নদীগুলো অনেক বড়। বড় বড় নদীগুলোকে আমরা ড্রেজিং করব। যেটা ৮-১০ কিলোমিটার চওড়া নদী সেটাকে আমরা ৪-৫ কিলোমিটারে নিয়ে আসব। এটাকে রেগুলার মেইনটেন্যান্স করব। ড্রেজিং করা মাটি ৪-৫ কিলোমিটার বাইরে ফেললে কাল্টিভেশন ল্যান্ড হবে। ওখানে ফসলের জমি হবে। নদীটা ছোট হয়ে আসল, নাব্যতা থাকবে তখন। তখন কিন’ এটার প্রকোপটা কমে আসবে, বলেন জাহিদ ফারম্নক।