স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর দুর্গাপুরে প্রবাসী স্বামীর বিরম্নদ্ধে এক অনত্মঃসত্ত্বা নারীকে পেটে লাথি দিয়ে গর্ভপাত ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর নির্যাতিত ওই নারীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস’ায় চার মাসের পেটের সনত্মান মারা যাওয়ায় গর্ভপাত করানো হয়।
এদিকে এ ঘটনায় নির্যাতিত নারী থানায় অভিযোগ করলেও দীর্ঘসময়েও তা মামলা আকারে রেকর্ড করেননি দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোতালেব। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ওসি উল্টো নির্যাতিত নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি মিটিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করছেন। এমনকি এ ঘটনায় পুলিশের বিরম্নদ্ধে নির্যাতিত নারীর প্রবাসী স্বামীকে শাসিত্ম বা বিচারের মুখোমুখি হতে বিরত রাখতে নির্বিঘ্নে বিদেশে যেতে সহযোগিতা করেছে পুলিশ।
নির্যাতিত নারীর থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলার মহিপাড়া গ্রামের মৃত দেদার ম-লের দুবাই প্রবাসী ছেলে সোহেল রানার (৩০) সাথে একই গ্রামের রইচ শাহ্‌র মেয়ে শিমু ইয়াসমিন লিপির (২৬) প্রায় ৭ বছর আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে লিপি সোহেলের বাবার বাড়িতেই থাকতেন। কিছুদিন আগে পাঁচ মাসের ছুটি নিয়ে দুবাই থেকে দেশে আসেন সোহেল। সোহেল বাড়ি আসার পর থেকেই স্ত্রী লিপির সাথে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। এ কারণে মাঝে মধ্যে লিপিকে নির্যাতন করতেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে লিপি আরও উলেস্নখ করেন, ১৯ জুন বিকেল ৫টার দিকে স্বামী সোহেল লিপিকে অশস্নীল ভাষায় গালিগালাজ শুরম্ন করেন। গালিগালাজ করার কারণ জানতে চাইলে একপর্যায়ে লিপির উপরে শারীরিক নির্যাতন শুরম্ন হয়। এ সময় তার তলপেটে লাথি মেরে বাড়ির উঠানে ফেলে দেয়া হয়। ওই দিন রাতে রক্তপাত শুরম্ন হলে পরের দিন ২০ জুন রামেক হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। সেখানে পেটে থাকা চার মাসের সনত্মানের গর্ভপাত করা হয়। নির্যাতনের কারণেই পেটে থাকা শিশুটি মারা গেছে বলে লিপিকে জানান চিকিৎসকরা।
এদিকে এ ঘটনায় চিকিৎসা শেষে নারী নির্যাতন ও গর্ভপাতের অভিযোগ এনে স্বামী সোহেলকে আসামি করে গত ২ জুলাই দুর্গাপুর থানায় মামলা করতে যান নির্যাতিত লিপি। এ সময় থানার ওসি আব্দুল মোতালেব এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। ওসির কথামতো লিখিত অভিযোগ করা হয়। এরপর অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড না করে এএসআই আজাদকে তদনেত্মর দায়িত্ব দেন ওসি।
লিপি বলেন, ওসি মোতালেব মামলা রেকর্ডে কালড়্গেপণ করেছেন। ১০ জুলাই আমাদের থানায় ডেকে সালিশ বৈঠক বসান তিনি। কিন’ মুল অভিযুক্ত আমার স্বামী হাজির না থাকায় আমরা ওসির ডাকে সাড়া দেইনি। পরে ওসি সালিশ বৈঠকে আবার বসার জন্য চাপ দেন। এর পরিপেপ্রড়্গিতে আমরা উপসি’ত হলে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার জন্য চাপ দেন ওসি। একপর্যায়ে সালিশ বৈঠক থেকে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চলে আসি।
তিনি বলেন, মামলা নিতে ওসি কালড়্গেপণ করায় আমার স্বামী ছুৃটি শেষ হওয়ার আগেই গোপনে দুবাই চলে গেছেন। সোহেল যেন বিচারের মুখোমুখি না হয় এব্‌ং নির্বিঘ্নে দুবাই চলে যেতে পারে এ কারণে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাকে সহযোগিতা করা হয়েছে। আমার স্বামীর পরিবারের সদস্যরা চাননি আমার সনত্মান ভূমিষ্ঠ হোক। এ কারণেই আমাকে নির্যাতন করে সনত্মানটি নষ্ট করে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার ওসি আব্দুল মোতালেব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন না করার জন্য সংশিস্নষ্ট প্রতিবেদককে অনুরোধও জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। এ কারণেই অভিযোগটি মামলা আকারে রেকর্ড করা হয়নি। মীমাংসার জন্য পুলিশের পড়্গ থেকেও কোন চাপ ছিল না।
তবে নির্যাতিত লিপি মীমাংসা হয়নি বলে দাবি করছেন বলে এ প্রতিবেদক জানিয়েছেন বলা হলে ওসি বলেন, তিনি (লিপি) ভুল বলছেন। আর মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সোহেলকে বিদেশে পালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগটিও সঠিক না বলে দাবি করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।