সোনালী ডেস্ক: অসাধু ব্যবসায়ীরা শিড়্গা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় শিড়্গাক্রম ও পাঠ্যক্রম বোর্ডকে (এনসিটিবি) এড়িয়ে বাজারে ছেড়ে উচ্চ মাধ্যমিক সত্মরের নকল পাঠ্যবই। ফলে রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ বইয়ের বাজারই এনসিটিবি অনুমোদিত উচ্চ মাধ্যমিক সত্মরের আবশ্যিক নকল পাঠ্যবইয়ে ছেয়ে গেছে। এমন পরিসি’তিতে ভুলেভরা নকল ওসব বইয়ের বিরম্নদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানের আহ্বান জানিয়ে সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চিঠি দিয়েছে পাঠ্যপুসত্মক বোর্ড। ওই প্রেড়্গিতে বিভিন্ন এলাকায় শুরম্ন হয়েছে অভিযানও। ধরা পড়েছে বেশ কয়েকজন অপরাধী। পাশাপাশি বিভিন্ন স’ানে মামলা হয়েছে। এনসিটিবি সংশিস্নষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশিস্নষ্ট সূত্র মতে, গত ১ জুলাই থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সত্মরের নতুন বই একযোগে বাজারে এসেছে। উচ্চ মাধ্যমিক সত্মরের সাহিত্য পাঠ (গদ্য ও কবিতা), বাংলা সহপাঠ (উপন্যাস ও নাটক ) এবং ইংরেজী বিষয়ের পাঠ্যপুসত্মক মুদ্রণ ও বাঁধাই করে বাজারজাতকরণে কাজ করছে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান মেসার্স অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস। সরকার নির্ধারিত মূল্যেই বই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। বইটিতে ন্যূনতম ৬০ গ্রাম হোয়াইটপ্রিন্ট, ব্রাইটনেস রয়েছে কমপক্ষে শতকরা ৮৫ ভাগ ও পিসিটি রয়েছে ৮৫ শতাংশ। বইয়ের মানে কোন ছাড় দেয়া হয়নি বলে সকলকে নকল বই সম্পর্কে সতর্ক করেছে সরকার।
সূত্র জানায়, বিগত কয়েক বছর ধরেই একটি সিন্ডিকেট পাঠ্যপুসত্মকের কাজ কৌশলে বাগিয়ে নিচ্ছিল। প্রতিবছরই দেখা যেত একটি চক্র সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওসব বই বাজারে ছাড়তো। ফলে কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে অনেক বেশি মূল্য দিয়ে বই কিনতে হতো। তবে এবার বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রীর সরাসরি তদারকিতে উচ্চ মাধ্যমিক সত্মরের পাঠ্যপুসত্মক সিন্ডিকেটমুক্ত করার উদ্যোগ নেয় এনসিটিবি। লক্ষ্য বাসত্মবায়নে এবার কোন অসাধু অযোগ্য ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান যাতে কাজ না পায় সেভাবেই পদড়্গেপ নেয়া হয়েছিল।
সূত্র আরো জানায়, পাঠ্যপুসত্মক বোর্ডের সঙ্গে কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান মেসার্স অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেসের চুক্তিপত্র সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে উচ্চ মাধ্যমিক সত্মরের তিনটি পাঠ্যপুসত্মকের একক প্রতিষ্ঠান হিসাবে বইয়ের মুদ্রণ, বাঁধাই ও বাজারজাতকরণের কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আছে অনেক নতুনত্ব। এসেছে অনেক পরিবর্তন। সদ্য এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা যাতে পুরাতন বই কিনে প্রতারিত না হয় সেদিকেও নজর রাখছে সরকার। চুক্তিতেও তাই স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেসের নামে বরাদ্দকৃত পাঠ্যপুসত্মক মুদ্রণ, বাঁধাই, বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী কিংবা সমিতি বাধা দিলে তার বিরম্নদ্ধে সরকার সকল ব্যবস’া গ্রহণ করবে। চুক্তির ১১ নং শর্তে বলা হয়েছে, চুক্তিকৃত বই নকলকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, বিক্রেতা, প্রেস, বাইন্ডিং কারখানাকে জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত বলে বোর্ড চিহ্নিত করে তাদের বিরম্নদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস’া গ্রহণ করবে।
এদিকে যে কোন মূল্যে সকল বইয়ের কারবারি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বাজারে নকল বই ব্যবসায়ীদের বিরম্নদ্ধে কঠোর ব্যবস’া নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। সরকারের অর্জনের সহযোগী হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের কথা ভেবে অপরাধ থেকে বিরত থাকতে হবে। শুধুমাত্র নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থের কারণে বাজারে নকল বই বিক্রি করলে তার বিরম্নদ্ধে কঠোর ব্যবস’া নেয়া হবে।
অন্যদিকে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানান, উচ্চ মাধ্যমিকের সরকার অনুমোদিক সঠিক পাঠ্য বই যাতে শিক্ষার্থীরা পেতে পারে সেজন্য নকল বই ব্যবসায়ীদের বিরম্নদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সকল জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়ার জন্য আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেভাবেই পদক্ষেপ নিচ্ছে। এছাড়া আমরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। রাজধানীর সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, নিলক্ষেতসহ বইয়ের গুরম্নত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে কঠোর নজরদারির অনুরোধ জানিয়েছি। এনসিটিবি চেয়ারম্যান নকল বইয়ের কবল থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গণমাধ্যমেও সহযোগিতা কামনা করেছেন। বলেছেন, ইতোমধ্যেই কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান সরকার অনুমোদিত পাঠ্যবই বাজারে ছেড়েছে।