সোনালী ডেস্ক: বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বগুড়ায় যমুনার পানি বিপদসীমার ১ শ সে. মি. ও সিরাজগঞ্জে ১৬ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন নতুন এলাকা পস্নাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। গৃহহীন হয়ে পড়েছে ৫ শতাধিক পরিবার।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীতে ৪৮ সে.মি. পানি বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদসীমার ১ শ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরমধ্যেই উপজেলার প্রায় ৭টি ইউনিয়ন পস্নাবিত হয়ে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলাসহ শেরপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বিসত্মীর্ণ নিম্নাঞ্চল নতুন করে তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে পাট, আউশ ধানসহ বিসত্মীর্ণ ফসলের খেত। সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সরকারি হিসেব মতে, সারিয়াকান্দি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২০ হাজার ৭ শ ৫৫টি পরিবার বন্যার পানিতে ড়্গতিগ্রসত্ম হয়েছে। একই সাথে সরকারিভাবে সারিয়াকান্দি উপজেলায় ২৬ হাজার ৬৫ হেক্টর জমির ফসল ড়্গতিগ্রসত্ম হবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সোমবার সারিয়াকান্দি উপজেলার প্রায় ৭টি ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান এসময় বিভিন্ন বন্যাকাবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন। যমুনানদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার ৫ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
এদিকে গতকাল জেলার বাঙ্গালী ও করতোয়াসহ বিভিন্ন নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাউবো বলছে যমুনা ছাড়া জেলার সব কটি নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৪৮ সে.মি. । সোমবার সন্ধ্যে ৬টায় নদীর পানি বিপদসীমার ১ শ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হবার খবর দিয়েছে পাউবো। ধুনট, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলার নদী তীর সংলগ্ন ও নিম্নাঞ্চল দুর্গম চর নতুন করে পস্নাবিত হয়েছে। নদীর পানি ঢুকে পড়েছে বসতবাড়িতে। নতুন নতুন এলাকা পস্নাবিত হবার কারণে প্রায় ৪০টি শিড়্গা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যমুনার ঢলে সারিয়াকান্দির চন্দনবাইশা, কর্নিবাড়ি, বোহাইল, চালুয়াবাড়ি, হাটশেরপুর, কাজলা, কামালপুর ও কুতুবপুর ইউনিয়ন ধুনটের ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন এবং সোনাতলার পাকুল্যা ও তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নে সোমবার সরাকারি ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বগুড়া পাউবো’র এক সূত্র মতে, যমুনা নদীর সারিয়াকান্দি পয়েন্টে এখন পানি বিপদসীমার ১ শ সে.মি. উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হবার খবর নিশ্চিত করেছে।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে দ্রম্নতগতিতে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তীরবর্তী নতুন নতুন এলাকা পস্ন্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ। তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি। সোমবার সকাল ৯টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৩.৫১ মিটার রেকর্ড করা হয়। যা বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। (ডেঞ্জার লভেলে-১৩.৩৫)। গত চারদিনে পানি বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৩০, ৪০, ৩৩ ও ৩১ সেন্টিমিটার।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় যমুনার পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকদিন ধরেই পানি বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে যমুনা নদীর উজানে আগামি ২৪ ঘণ্টা পানি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। এতে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে আরও ৩ দিন পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।