স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অলরাউন্ডার চামেলী খাতুনের চিকিৎসা আবার থমকে গেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। চেয়েছেন সহায়তা।
জাতীয় দলের হয়ে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যনত্ম মাঠ মাতিয়ে বেড়িয়েছেন রাজশাহীর মেয়ে চামেলী। খেলতে গিয়ে পায়ের লিগামেন্ট ছিড়ে ও মেরম্নদন্ডে আঘাত গেয়ে তিনি গুরম্নতর ইনজুরিতে পড়েন। এরপর থেকে চিকিৎসার অভাবে প্রায় ৮ বছর ধরে পড়ে ছিলেন বিছানায়। ধীরে ধীরে শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যাচ্ছিল।
গত বছর বিষয়টি ফেসবুক ও গণমাধ্যমে উঠে এলে প্রধানমন্ত্রী তাকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা করেন। ওই সময় আরও অনেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেন। আর্থিক সহায়তা পেয়ে তিনি ভারতে পায়ের লিগামেন্ট অপারেশন করেন। তখন প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেন তিনি। চলতি বছরের মার্চে তাকে পুনরায় ফলোআপের জন্য ভারতে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তিনি চিকিৎসার জন্য যেতে পারছেন না।
এ অবস্থায় শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হয়েছে জানিয়ে আর্থিক সহায়তা চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন চামেলী। তিনি লিখেছেন, গত বছরের মাঝামাঝিতে আমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। আমার দুই পা প্যারালাইজড হওয়ার পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো। তখন আমার ফেসবুক পোস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেটবোর্ডের নজরে আসলে তারা আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আমি বেঙ্গালুরম্নতে পায়ের লিগামেন্ট সার্জারি করে আসি। তখন মোটামুটি সুস্থ হয়েছিলাম। ওখানকার ডাক্তার আমাকে এ বছরের মার্চে ফলোআপ করার জন্য ডেকেছিলো। আমার অল্প টাকার চাকরি। আর পরিবারের বৃদ্ধ মা বাবা আর স্বামী হারা বোন। চাকরির টাকায় সংসারই চলে না ভিনদেশে চিকিৎসা করা তো বহুদূরের কথা। ফলোআপে না যাওয়ার কারণে হোক বা সেখানে চিকিৎসা তে ঘাটতির কারণেই হোক আমার অবস্থা ইদানীং আরো খারাপ হচ্ছে। আমার দুই পা ফুলে গেছে। আমার মেরম্নদ-র হাড় ৪ ডিগ্রী বাঁকা। আমি ঠিকমতো নড়াচড়াও করতে পারি না এ জন্য। এজন্য আমি ঠিকমতো ডিউটি করতে পারছি না। আমার ডিপার্টমেন্ট আমাকে যথেষ্ট সুযোগ দিচ্ছে। আমি ঠিকমতো যেতে পারি না এবং অসুস্থ হলে তারা আমাকে বাসায় যাওয়ার অনুমতি দেন।
কিন্তু এভাবে আর কত! কাউকে বসিয়ে তো বেতন দেয়া যায় না। এই চাকরি চলে গেলে আমার পরিবার না খেয়ে মারা যাওয়ার উপক্রম হবে। এমতাবস্থায় আমি কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না। ক্রিকেট অনুরাগী, ক্রিকেট বোর্ড, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আর্জি আমাকে চিকিৎসা করে সুস্থ হওয়ার জন্য একটু সহযোগিতা করম্নন। আমি ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। বেশিক্ষণ বসে থাকলে কোমর, পা ব্যাথা করে এবং পায়ে পানি আসে। দিন দিন অবস্থা আরো অবনতি হচ্ছে। যথাসময়ে চিকিৎসা না করালে হয়তো পঙ্গুত্ব বরণ করতে পারি। আমি খুব বেশি অসহায় হয়েই মানুষের কাছে হাত পাততে বাধ্য হয়েছি। আপনারা যদি এগিয়ে না আসেন একটা পরিবার ধ্বংসের মুখে পড়বে। দয়া করে আমার চিকিৎসা এর জন্য আপনারা কিছু করম্নন। খুব বেশি কষ্ট, অসহায় অবস্থা নিয়ে আমি এই আর্জি করছি’।
এদিকে, তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চামেলীর ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বড় বোন চম্পা খাতুন ফোন রিসিভ করেন। চামেলী অসুস্থার কারণে কথা বলতে পারছেন না বলে জানান তিনি। চম্পা খাতুন বলেন, ভারতে অপারেশনের পর চামেলী মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠেছিলো। হাটাচলা করতে পারছিলেন তখন। মার্চে ফলোআপের জন্য আবারও ভারতে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু অর্থাভাবে যেতে পারেনি। এখন শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হয়েছে। তার দুই পা ফুলে গেছে। বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে সে।
আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, তাকে আর্থিক সাহায্যের জন্য এর আগে অনেকেই প্রতিশ্রম্নতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সবাই সহায়তা করেননি। চিকিৎসার জন্য মোট ৬ লাখ টাকা পেয়েছিলাম তখন। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে দিন দিন। দ্রম্নত চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন।