স্টাফ রিপোর্টার: হাত হারানোর এক বুক হতাশা নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন রাজশাহী কলেজের ছাত্র ফিরোজ সরদার (২৫)। গতকাল রোববার দুপুরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে ছুটি দেয়া হয়। এরপর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেন ফিরোজ।
যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় সহপাঠী, কলেজ কর্তৃপড়্গ এবং যারা রক্ত দিয়ে সাহায্য করেছেন তাদের প্রদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে ড়্গোভ প্রকাশ করেন বাস ও ট্রাক মালিক সমিতির প্রতি। ফিরোজ বলেন, এতো বড় একটা দুর্ঘটনার পরও তারা খোঁজ নেয়নি।
ফিরোজ সরদার রাজশাহী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তিনি বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার নামোইট গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে গত ২৮ জুন বগুড়ায় গিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষে বাসে চড়ে রাজশাহী ফিরছিলেন। পথে রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালি এলাকায় বেপরোয়া বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ডান হাতের কনুইয়ের ওপর থেকে কেটে পড়ে যায় ফিরোজের।
তাই চলমান মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নেয়া হয়নি তার। এখন কেবল অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেখছেন তিনি। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে ফিরোজ সরদার বলেন, আমার স্বপ্ন শিড়্গক হওয়ার। কিন্তু হাত হারিয়ে সেই স্বপ্ন এখন ধূলিসাৎ। চালকদের দোষে আমি সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেলাম। তাই সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, আমাকে প্রাইমারী স্কুলের শিড়্গক হিসেবে যেন নিয়োগ দেয়া হয়। তাহলে জীবনটা কোনোভাবে চালিয়ে নেয়া যাবে। তা না হলে হাতহীন এই জীবন হবে অভিশাপের।
ফিরোজের সঙ্গে ছিলেন বড় চাচা আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, দোষি চালকদের যেন দ্রম্নত বিচার হয়। এমন দৃষ্টানত্মমূলক শাসিত্ম যেন দেয়া হয় যা দেখে চালকরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাতে ভয় পাবেন।
রামেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক ও সার্জারি ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, ফিরোজের চিকিৎসার কোনো ত্রম্নটি রাখা হয়নি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, কেটে যাওয়া হাতটা আর জোড়া লাগানো যায়নি। এখন কাটা হাতের ড়্গত প্রায় সেরে গেছে। তাই তাকে ছুটি দেয়া হয়েছে।
ফিরোজের এ দুর্ঘটনায় গত ২৯ জুলাই কাটাখালি থানায় মামলা করেন তার বাবা মাহফুজুর রহমান। এরই মধ্যে ‘মোহাম্মদ পরিবহন’ বাসের চালক ফারম্নক হোসেন সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে বাস ও ট্রাক। তবে ট্রাকচালক ওয়াহিদুজ্জামান এখনও পলাতক।