বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ইউনাইটেড টেঙটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) কোর্সে ভর্তি হয়েও পরীড়্গা দিতে পারছেন না ৩০ জন শিড়্গার্থী। ওই শিড়্গার্থীরা ২০১৮-১৯ শিড়্গাবর্ষে ভর্তি হন। গত ২৭ জুন থেকে রাবির অধীনস্থ অন্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর একই শিড়্গাবর্ষের শিড়্গার্থীদের পরীড়্গা শুরম্ন হলেও তাদের পরীড়্গার কোনো ব্যবস্থা করেনি ইন্সটিটিউট কর্তৃপড়্গ।
ভুক্তভোগী শিড়্গার্থীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা প্রতিষ্ঠানের শিড়্গক-কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে, তারা কিছু জানেন না উলেস্নখ করে ইন্সটিটিউটের ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। শিড়্গার্থীরা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে একপর্যায়ে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের কল রিসিভ করেন নি।
ফলে বাধ্য হয়ে গত ২ জুলাই ভুক্তভোগীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের দফতরে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন- ইন্সটিটিউট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের রেজিস্ট্রেশন করেনি। ফলে তারা ইন্সটিটিউটে নির্ধারিত ফিস জমা দিয়ে ভর্তি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিড়্গার্থী নয়। ফলে তাদের পরীড়্গা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
ইউনাইটেড ইন্সটিটিউট সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ শিড়্গাবর্ষে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে ৮ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিঙ ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ৭ জন ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ১৫ জন ভর্তি হয়েছিল। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ ১০ হাজার, সেমিস্টার ফিস বাবদ ২০ হাজার টাকা এবং পরীড়্গার ফিস বাবদ ৫ হাজারসহ প্রায় ৪০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। নিয়মিত ক্লাসও নেওয়া হয়। অথচ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক দফতরে কোনো টাকা জমা দেয়া হয়নি। ফলে শিড়্গার্থীদের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় তাদের নামে কোনো প্রবেশপত্রও ইস্যু করেনি রাবি কর্তৃপড়্গ।
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিঙ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিড়্গার্থী শামিউল ইসলাম বলেন, আমরা ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন এবং পরীড়্গা ফিস বাবদ প্রায় ৪০ হাজার করে টাকা দিয়েছি। নিয়মিত ক্লাসও করেছি। এখন শুনছি- আমাদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কোনো নামও নেই। ফলে পরীড়্গা দেওয়ার সুযোগও নেই।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আমরা ইন্সটিটিউটে গিয়ে টাকা ফেরত চেয়েছি। কিন্তু কর্তৃপড়্গ ভর্তির সময়ে নেয়া আমদের এইচএসসি’র সার্টিফিকেট ও মার্কসশিট ফেরত দিয়েছে। কোনো টাকা ফেরত দেয়নি। ইন্সটিটিউটের এমডি দেশেও নেই বলে জানিয়েছে।
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তায়েব ফারাজি ও সিভিল ইঞ্জিনিয়রিং বিভাগের মারম্নফ হাসানও একই অভিযোগ করেন। তারা জানান- ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও পরীড়্গার ফিস বাবদ জমা দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে কর্তৃপড়্গ শুধু আশ্বাস দিচ্ছে। তবে আদৌ তারা টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কিনা তা বুঝতে পারছেন না।
এ বিষয়ে জানতে গত ১০ জুলাই পবা উপজেলা পরিষদের দড়্গিণে অবস্থিত ওই ইন্সটিটিউটে গিয়েও মহাব্যবস্থাপক মেহেদী হাসানের দেখা মেলেনি। পরে তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও কল রিসিভ হয়নি। গতকাল শনিবার দুপুরে ওই ইন্সটিটিউটের রিসিপশনিস্ট নিপা নামে একজন মোবাইলে জানান, ইন্সটিটিউটের এমডি মেহেদী হাসান দেশে নেই। কবে আসবেন তাও তিনি বলতে পারেন না।
শিড়্গার্থীদের রেজিস্ট্রেশন না হওয়া এবং টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ হওয়ায় প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। টাকার অভাবে নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। শিড়্গার্থীদের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় তারা পরীড়্গা দিতে পারছে না। তবে ভুক্তভোগী শিড়্গার্থীদের টাকা এমডি ফেরত দিতে চেয়েছেন বলে জানান তিনি।
জানতে চাইলে রাবির কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক এম. মজিবুর রহমান বলেন, ওই ইন্সটিটিউট গত তিন বছর বিএসসি শাখার কোনো নবায়ন ফিস জমা দেয়নি। তারা শিড়্গার্থী ভর্তি করালেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন হয়নি। ফলে তাদের পরীড়্গা নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা ওই ইউনাইটেড ইন্সটিটিউটের বিরম্নদ্ধে দ্রম্নত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তাদের অনুমোদন বাতিল করা হবে।
এদিকে, ইন্সটিটিউটের এমডি মেহেদী হাসানের বিরম্নদ্ধে নগরীর শাহমখদুম থানায় চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাত ও শিড়্গার্থীদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীরা। জানতে চাইলে নগরীর শাহমখদুম থানার ওসি এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে উলেস্নখ করে একজন লিখিত অভিযোগ করেছেন। ইনস্টিটিউটের শিড়্গার্থীরাও তাদের টাকা নেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা তদনত্ম করছি। প্রমাণ পেলে ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেব।