লালন উদ্দীন, বাঘা থেকে: রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার পানি বাড়ার সাথে সাথে ভাঙছে পদ্মার তীরবর্তী পাড়। ধসে পড়ছে চাপ চাপ মাটি। ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কিশোরপুর ও গোকুলপুর এলাকায়। এরই মধ্যে গ্রাম দুটির পদ্মাপাড়ের প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙনের কবলে পড়েছে। এতে জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে পদ্মাপাড়ের তোজাম্মেল মাস্টার, তাহেরুদ্দীন, আনিসুর রহমান আমারুল, তাজমুল ও তামরুলের ঘরবাড়ি। এসব পরিবার ঘর-বাড়ি হারানোর আতঙেক রয়েছে। পদ্মার পাড়ে যেখানে তাদের বসতি সেখান থেকে ৪০-৫০ গজ দূরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। উদ্যোগের অভাবে অরড়্গিত রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মূল বাঁধও।
শনিবার সরেজমিন ভাঙন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কিশোরপুর গ্রামের তারুর বাড়ির পশ্চিমের বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বস্নক বসানো আছে। আর ভাঙন শুরু হয়েছে তারুর বাড়ির পূর্বে থেকে গোকুলপুর খেয়াঘাট এলাকার তোজাম্মেল মাস্টারের বাড়ি পর্যনত্ম। এতে নদীপাড়ের চাপ চাপ মাটি ধসে পড়ছে পদ্মায়। ভাঙন ঠেকাতে বছর বছর বাঁশের বেড়া দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তীর সংরড়্গণের কাজ করা হয়েছে। তারপরও নদী ভাঙনের হাত থেকে রড়্গা পাচ্ছে না এলাকাগুলো।
স্থানীয় আফজাল জানান, গত ১৫ বছরে পদ্মার ভাঙনে এসব এলাকার ৫ শাতাধিক বাড়িসহ ৭টি শিড়্গা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, বিজিবি ক্যাম্প ও কয়েক হাজার বিঘা আবাদি-অনাবাদি জমি চলে গেছে নদীর গর্ভে। ভাঙনে গৃহহারা হয়েছে হাজারো পরিবার। এবারও পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। মহদিপুর এলাকার জামরুল ইসলাম জানান, গত ৮ বছরে তার দাদার প্রায় ২ শ বিঘা, আতারপাড়ার সোবহান মোলস্নার ৭৫ বিঘা, একই গ্রামের সাধু ডাক্তারের ১ শ বিঘা জমিসহ গাছপালা বিলীন হয়েছে পদ্মার ভাঙনে। তাদের মতো অনেকের জমি পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।
সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে মীরগঞ্জ, আলাইপুর হয়ে গোকুলপুর, কিশোরপুর পর্যনত্ম প্রায় ৭ কি. মিটার এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। তারপর থেকেই প্রতি বছর ভাঙতে থাকে পদ্মা। ২০০৪ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন কবলিত জায়গাগুলোতে বালির বসত্মা দিয়ে তা ঠেকানোর পর ২০০৫ সালে উদয়নগর বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ক্যাম্পসহ চৌমাদিয়া গ্রামটি রড়্গার জন্য বস্নক বসায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। সেই বস্নক বসানোর কয়েক দিন পর সেগুলো নদীতে ভেসে যায়। পাকুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু বলেন, ভাঙনরোধে পানি উন্নযন বোর্ড লোক দেখানো বাঁশের বেড়া দিয়ে প্রকল্প শেষ করে।
উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন লাভলু বলেন, ভাঙনরোধে জরুরিভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্র্তৃপড়্গকে অবহিত করে অনুরোধ জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন রেজা জানান, জেলা প্রশাসককে জানিয়ে দ্রম্নত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক জানান, বাঘা-চারঘাটের নদী তীরবর্তী ৪ হাজার ৩ শ মিটার বস্নক বসানোর কাজের জন্য প্রসত্মাবিত একটি মেগা প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো আছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে। যথাযথ কর্তৃপড়্গের মাধ্যমে বর্তমানে ভাঙনের বিষয়টি রড়্গণাবেড়্গণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে। পাওয়া গেলে ভাঙনের স্থানগুলোতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।