স্টাফ রিপোর্টার: দেশের ১০ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, আগামি কয়েক দিন ভারি বর্ষণ হতে পারে। ফলে এসব জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, সিলেট, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কঙবাজার, শেরপুরসহ ১০ জেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এ ১০ জেলায় ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জরম্নরিভাবে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
এদিকে রাজশাহীর পদ্মা নদীতেও পানি বাড়তে শুরম্ন করেছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মরা এ নদীতে পানি বাড়ছে প্রতিদিনই। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে কয়েকদিন পরেই পদ্মার পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়তে পারে শহর রক্ষা বাঁধও। নদীতে এরই মধ্যে বয়ে যাচ্ছে দখিনা স্রোত। ফলে মধ্য চর ও নদীতীরে বসবাসরতরা ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গেজ রিডার এনামুল হক জানান, গত ২ জুলাই দুপুর থেকে পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরম্ন করেছে। ওই দিন পদ্মায় ১০ দশমিক ৭৮ মিটার পানি পাওয়া যায়। তবে ৬ জুলাই পর্যনত্ম পানি কমে। ৬ জুলাই পানির পরিমাণ ছিল ১০ দশমিক ২৮ মিটার। এরপর আবার ৭ জুলাই থেকে পানি বাড়তে শুরম্ন করে এ পর্যনত্ম অব্যাহত রয়েছে।
এনামুল হক জানান, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মায় ১১ দশমিক ৭৭ মিটার পানির উচ্চতা পাওয়া গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ছিল ১১ দশমিক ৩৭ মিটার। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৪০ সেন্টিমিটার। পদ্মায় পানি প্রবাহ এখন বাড়বে বলেও জানান তিনি।
রাজশাহীতে পদ্মার বিপদসীমা হচ্ছে ১৮ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মার পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৩৪ সেন্টিমিটার। ছুঁই ছুঁই করলেও এর পর আর পদ্মার পানি বাড়েনি। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে পানি কমতে শুরম্ন করে।
গতকাল বিকেলে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে নদীতে স্রোত বইতে শুরম্ন করেছে। এর প্রভাবে রাজশাহী মহানগরীর বুলনপুর থেকে নবগঙা পর্যনত্ম প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় একটু একটু করে পানি শহররক্ষা বাঁধ ছুঁতে শুরম্ন করেছে। পানি বাড়ায় মহানগরীর বসুড়ি এলাকার মানুষ আবারও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন।
অতীতের পরিসংখ্যান টেনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক বলেন, পানি নিয়ে উৎকণ্ঠা থাকলেও এখনই আতঙ্কের কিছু নেই। ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট রাজশাহীতে পদ্মার পানির প্রবাহ উঠেছিল সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৪৬ সেন্টিমিটার। এরপর আর বাড়েনি। বরং পরদিন ২৯ আগস্ট থেকে পদ্মার পানি আবারও ধীরে ধীরে কমতে শুরম্ন করে। গেল ১৭ বছরে রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ অতিক্রম করেছে মাত্র দুই বার। এর মধ্যে ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যনত্ম টানা ৮ বছর রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।
কেবল ২০০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মার সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার। এরপর ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। ওই বছর পদ্মার উচ্চতা দাঁড়িয়েছিল ১৮ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার। এর পর আর এই রেকর্ড ভাঙেনি বলেও জানান গেজ রিডার এনামুল হক।