পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় হাজেরা খাতুন তিশা নামের ৩ বছরের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকের অবহেলার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগে মৃত শিশু বিড়্গুদ্ধ পরিবারের লোকজন কর্তব্যরত চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করে। এ সময় আধ ঘণ্টা বাইরে থেকে প্রায় শতাধিক লোকজন হাসপাতালটি অবরুদ্ধও করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শানত্ম করে।
সূত্র মতে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫ টার দিকে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নঙে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আধ ঘণ্টা পরেই তার মৃত্যু হয়। মৃত হাজেরা খাতুন তিশা (৩) মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার বাসিন্দা মনির হোসেনের মেয়ে। কয়েক দিন আগে তিশা তার মা মিনা বেগমের সাথে পুঠিয়া উপজেলার পৌর এলাকার পালোপাড়া মহলস্নায় তার নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলো। লাঞ্ছিত চিকিৎসক হলেন, জিয়াউর রহমান (৩৬) তিনি স্বাস্থ্য কমপেস্নঙের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদে রয়েছেন।
মৃতের পরিবার ও প্রত্যড়্গদর্শি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার তিশার শরীরে সামান্য জ্বর আসায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নঙে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আবার বাড়িতে নিয়ে আসে তার পরিবার। পরে রাতে তিশার শরীরে ফের জ্বর এলে শুক্রবার ভোর রাতে উঠে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নঙে নিয়ে আসে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তিশার শারীরিক অবস্থা দেখে কিছু ওষুধ লিখে হাসপাতালের দোতলায় পাঠান। সেখানে দায়িত্বরত নার্স মমেনা বেগম তিশার শরীরে পর পর দুটি ইনজেকশন পুশ করে তাকে বেডে শুয়িয়ে রাখেন। এসময় নার্স মমেনা বেগম তাদের বলেন, আধ ঘণ্টার মধ্যে তিশার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে এখানে ভর্তি রাখা হবে না। তাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। প্রত্যড়্গদর্শিরা জানান, পর পর দু বার তিশার শরীরে দুটি ইনজেকশন পুশ করার কিছুড়্গণ পরেই তার খিঁচুনি উঠে। তার অবস্থার অবনতি দেখে দায়িত্বরত নার্স বারংবার হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার জিয়াউর রহমানকে ফোন করে ডাকলেও তিনি রোগীর কাছে আসেননি। তিনি তখন ঘুমাচ্ছিলেন। এদিকে ততড়্গণে খিঁচুনি উঠে হাসপাতালেই তিশার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ডা. জিয়াউর রহমান তিশার কাছে এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিশার মা মিনা বেগম বলেন, ইনজেকশন দেয়ার পর থেকেই আমার মেয়ের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। সময় মত যদি ডাক্তার সাহেব আমার মেয়েকে দেখতেন তাহলে হয়তো আমার মেয়েটা বেঁচে যেত। হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, নার্স আমাকে ফোন করার কয়েক মিনিটের মাথায় আমি দোতলায় যাই। যখন তিনি ফোন করেন তখন আমি জরুরি বিভাগে আরেকটা রোগী দেখছিলাম। তাই যেতে কয়েক মিনিট দেরি হয়েছে। কি ইনজেকশন দেয়া হয়েছিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকসহ জ্বর কমানোর কয়েকটি ওষুধ দেয়া হয়েছিলো। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর তার পরিবারের পড়্গ নিয়ে কয়েকজন যুবক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ছাড়াও গালাগালি করেছে। পরে তাৎড়্গণিকভাবে আমি থানায় ফোন করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইসও) ডা. নাজমা আক্তার মোবাইলফোনে বলেন, আমি ছুটিতে আছি। তবে শুনেছি রোগী ম্যানেজ করার সময় সকালে হাসপাতালে একজন মারা গেছে। চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলার কোন সত্যতা আমি পাইনি যায়নি। উল্টো চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করায় তিনি তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করবেন বলে জানান। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাকিল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, খবর পেয়ে আমি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। তবে শুক্রবার দুপুর পর্যনত্ম কেউ এ ব্যপারে থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদনত্ম সাপেড়্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।