নওগাঁ প্রতিনিধি: লাল চাঁন মোলৱার অব্যক্ত কথাগুলো এখন অনবরত তার দু চোখ বেয়ে অশ্রু হয়ে বেরিয়ে আসছে। আবেগ অনুভূতির কাছে আজ মুখের ভাষা যেন অবরুদ্ধ। স্বপ্নের আশা যে বাস্তবে ধরা দিবে এমন স্বপ্ন কি সত্যিই তিনি দেখেছিলেন? তাই মাঝে মাঝে নিজের শরীরে তিনি চিমটি কেটে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। আনন্দ ঝরাতে ঝরাতে তিনি বলে উঠলেন, ‘আমি কথা দিয়েছি, আর ভিৰে করবো না’।
নওগাঁর মান্দা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের মৃত তারা মোলৱার ছেলে মাত্র ৩৮ ইঞ্চি লম্বা লাল চাঁন মোলৱার সহায় সম্পদ বলতে কিছুই নেই। খর্বকায় (বামন) লাল চাঁন মোলৱা নওগাঁর নওহাটা মোড় (চৌমাশিয়া) বাজার বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ানো বাসের যাত্রীদের কাছে থেকে হাত পেতে নেয়া ভিৰার টাকায় সংসার চালানোর পাশাপাশি তার দুটি ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। ভিৰুক লাল চাঁন মোলৱার কলেজে পড়–য়া বড় ছেলে ফিরোজ হোসেন এবার পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন।
যে দিন ফিরোজের চাকরিটি নিশ্চিত হয়, সেদিন অনেকটা রাত হয়েছিল। অসহায় লাল চান ছেলেকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন নওগাঁ পুলিশ লাইনস্‌ মাঠের এক কোণে। তাকে ছেলেকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন। তিনি বাবা-ছেলেকে ডেকে নেন। নওগাঁ সদর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে মান্দা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে পুলিশের পিক-আপ ভ্যানে পৌঁছে দেন তাদের। শুধু লাল চান ও তার ছেলেকে নয় অনেক নারী কনস্টেবল প্রার্থীকেও অনুরূপভাবে রাতে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স’াপন করেছেন পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন পিপিএম। এবারে নওগাঁ জেলায় বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ৪২ জন নারীসহ মোট ১২০ জন যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন।
এ ব্যাপারে মাত্র ৩৮ ইঞ্চি লম্বা লাল চাঁন মোলৱা বলেন, আমি একজন সহায় সম্বলহীন মানুষ। আমি বাসের যাত্রীদের কাছে হাত পেতে ভিৰা করে সংসার চালিয়েছি এবং ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছি। কাঁদতে কাঁদতেই বলেন, মহান আলৱাহ্‌ নওগাঁতে ভাল পুলিশ সুপারকে পাঠিয়েছেন বলেই আমার শিৰিত ছেলেটির চাকরি হলো। পুলিশ সুপার স্যার আগে থেকেই বলেছেন কেউ যেন চাকরির জন্য কোন দালাল চক্র বা কাউকে টাকা না দেয়। আমি পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু থেকেই সেখানে ছিলাম। আমার মত সেখানে আসা আরো লোকজনের সাথেও আমি কথা বলেছি সবাই এবার বলেছে স্যার খুবই ভাল মানুষ। টাকা ছাড়াই চাকরি হবে। অবশেষে সেই কথাই সত্যি হলো আমার ছেলেসহ রিক্সা চালকের মেয়ে, হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধার নাতি সব মিলিয়ে ১২০ জন নারী-পুরুষের। চাকরি পাওয়া প্রায় সবাই দরিদ্র, হতদরিদ্র ও মাঝারি পরিবারের সন্তান বলেও ভিৰুক লাল চাঁন মোলৱা জানিয়েছেন।