স্টাফ রিপোর্টার: মেয়েটি বলছে, ১৩ জনের একটি দল তাকেসহ মোট তিন স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে গাজীপুর থেকে রাজশাহী এনেছে। মাইক্রোবাস থেকে লাফ দিয়ে সে পালিয়েছে। অন্য দুজনকে নিয়ে গেছে অপহরণকারীরা। কিন্তু পুলিশ তার এ বক্তব্যের তেমন সত্যতা পাচ্ছে না। ফলে এই ‘অপহরণের’ ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশায় পড়েছে রাজশাহীর পুলিশ।
গত বুধবার রাত ৮টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী মোড়ের একটি ফার্মেসির সামনে গিয়ে বসে পড়ে ১৪ বছরের ওই মেয়েটি। মেয়েটি পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শানত্মনগর এলাকায় থাকে। স্থানীয় মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিড়্গার্থী সে। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার দমদমা গ্রামে। মেয়েটির বাবা-মা গাজীপুরে পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
ফার্মেসিতে গিয়ে মেয়েটি বলে, তাকে এবং তার স্কুলের আরও দুই ছাত্রীকে সকালে স্কুল যাওয়ার পথে জোর করে সাদা রঙের একটি বড় মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়। এরপর তারা অচেতন হয়ে পড়ে। রাজশাহী আসার পর তার জ্ঞান আসে। তালাইমারী মোড়ে গাড়িটি যানজটে পড়লে সে লাফ দেয়। তবে অপর দুই স্কুলছাত্রীকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারাও তার মতো স্কুলের ইউনিফরম পরে আছে। আর গাড়িতে অনত্মত ১৩ জন অপহরণকারী রয়েছে বলেও জানায় সে।
ঘটনা শুনে ওই স্কুলছাত্রীকে নগরীর মতিহার থানায় নিয়ে যান ফার্মেসির হাসিবুর রহমান চৌধুরী (৬৫)। এরপর রাজশাহী মহানগর পুলিশের মতিহার জোনের উপ-কমিশনার সাজিদ হোসেন ও মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদেরকেও একই কথা বলে মেয়েটি। তখন রাজশাহীর প্রতিটি চেকপোস্টে সাদা রঙের মাইক্রোবাস তলস্নাশি শুরম্ন হয়। একইসঙ্গে ঘটনার বিষয়ে অবহিত করা হয় গাজীপুর জেলা পুলিশকে।
গাজীপুর পুলিশ বলছে, তিন স্কুলছাত্রীর অপহরণের মতো কোনো ঘটনার খবর তারা পাননি। ঘটনাটি তাদের কাছে রহস্যজনক। কারণ, রাজশাহীতে উদ্ধার মেয়েটি আরও যে দুই ছাত্রীর কথা বলেছে তারা অপহরণের শিকার হয়নি। ওই ছাত্রীরা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার তারা ক্লাসও করেছে।
গাজীপুরের শ্রীপুর থানার ওসি লিয়াকত আলী বলেন, তিনটি মেয়ে অপহরণের শিকার হলে এলাকায় হুলস্থুল পড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সকালের এ ঘটনার খবর রাজশাহী পুলিশ না জানানো পর্যনত্ম তারা জানতেই পারেনি। রাতে ঘটনা শুনেই রাজশাহীতে উদ্ধার মেয়েটির বাবাকে থানায় আনা হয়। তিনি অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় অপহরণের মামলা করেছেন। শ্রীপুরের আর কোনো ছাত্রী নিখোঁজ নেই।
রাজশাহীর মতিহার থানার ওসি শাহাদাত হোসেন খান বলেন, মেয়েটির কথায় আমরা ধোঁয়াশায় পড়ে গেছি। সে তার কথায় এখনও অনড় রয়েছে। বলছে, তাদের তিনজনকে অপহরণ করে আনা হয়। বিষয়টি তদনত্ম করা হচ্ছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রম্নহুল কুদ্দুশ জানান, মেয়েটির ভাষ্য অনুযায়ী রাজশাহীর প্রতিটি চেকপোস্টে সাদা রঙের মাইক্রোবাস তলস্নাশি করা হয়েছে। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। এখন উদ্ধার হওয়া মেয়েটিকে তাদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। শ্রীপুর থানায় অপহরণের যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তার তদনত্মকারী কর্মকর্তা রাজশাহী এসে তাকে নিয়ে যাবেন।