সড়ক পথে চাপ কমাতে সরকার যখন একের পর এক আন্তঃনগর ও বিরতিহীন ট্রেন সার্ভিস চালু করে বাহবা পাচ্ছে ঠিক তখনই রেল লাইনের দুরবস’া সবার মনেই শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। রেললাইনে বাঁশ ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক শেষ হবার আগেই কুলাউড়ায় রেলসেতু ভেঙে ট্রেন দুর্ঘটনার বেশ কিছুদিন পর রাজশাহীতে বুধবার তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়, তার একদিন আগে অল্পের জন্য রৰা পায় আন্তঃনগর মধুমতি ট্রেনের যাত্রীরা। এতে করে সড়কের মতো রেলপথের যাত্রীরাও যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে তবে তাদের দোষ দেয়া যাবে কি?
গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় সরদহ স্টেশনের দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে ঈশ্বরদী থেকে রহনপুরগামী তেলবাহী ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হলে এপথে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। রেললাইনের মারাত্মক ৰতি সারাতে সময় লাগবে বলে জানা গেছে। এর ফলে অকস্মাৎ এখানে ট্রেন সার্ভিস অচল হয়ে পড়ায় যাত্রীসাধারণের দুর্ভোগের শেষ নেই। এ ঘটনায় নির্বাহী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠন করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে গোয়ালন্দ থেকে রাজশাহীগামী আন্তঃনগর ট্রেনটি আড়ানী স্টেশনের আউটার সিগনালের কাছে মারাত্মক দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রৰা পায়। সিগনালের পূর্বে ঝিনা বাজারের পাশে রেলের লাইন ৫ ইঞ্চির মত ভাঙা দেখতে পেয়ে লোকজন চিৎকার শুর্ব করে। ট্রেনের আলো দেখে টর্চ জ্বালিয়ে লাল কাপড় দেখিয়ে ট্রেন থামিয়ে দেয়। রেলের লোকজন এসে উপসি’ত বুদ্ধি খাটিয়ে ট্রেনটি অতিধীরে পার করে।
রেল লাইনের অবস’া নিয়ে আগে থেকেই লেখালেখি কম হয়নি। ২০১৭ সালে ঝিনা রেলগেটেই লাল মাফলার দেখিয়ে তেলবাহী ট্রেন থামিয়ে দুর্ঘটনা এড়িয়ে আলোচিত হয় দুই কিশোর। দেড় বছর পর সেই স’ানেই রেললাইন ভাঙা পাওয়া গেল। এই ঘটনাসহ বেহাল রেললাইন নিয়ে পত্র-পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় ছাপা হয়েছে। কিন্তু এসবে কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। নইলে বৃষ্টিতে রেল লাইন দেবে যাওয়া বা লাইনের বিপদজনক অবস’া দেখা যেত না। রেললাইন ঠিকমতো দেখভাল করা হলে, প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংস্কার করা হলে নিশ্চয়ই লাইনচ্যুতি বা দুর্ঘটনার আশঙকা সৃষ্টি হতো না।
এজন্য রেলের জনবল সংকট, অর্থ বরাদ্দের অভাব, না সংশিৱষ্টদের অবহেলা দায়ি সেটা ভেবে দেখার বিষয়। তবে সেই ব্রিটিশ-পাকিস্তান আমলের লাইন সংস্কার ও সম্প্রসারণ ছাড়া বর্তমান চাহিদা পূরণ যে সম্ভব নয়, সেটা বলার অপেৰা রাখে না।