৬ মাসে রাজস্ব আদায় ২২৮ কোটি টাকা

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২২৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় ১৫৪ কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে।

গত ডিসেম্বর মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। যা গত অর্থবছরের ডিসেম্বরে ছিল ১৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা। করোনা বর্ষ ২০২০ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে সোনামসজিদ স্থল কাস্টমস স্টেশনে আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব আয় বেড়েছে।

গত ছয় মাস থেকে পর্যায়ক্রমে পণ্য আমদানি বাড়ছে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সোনামসজিদ বন্দরে প্রতিমাসেই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে স্থানীয় কাস্টমস কর্মকর্তাদের দাবি।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের তদারকি ও কঠোর নজরদারির ফলে বন্দরে রাজস্ব আহরণ বাড়ছে। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মমিনুল ইসলাম জানান, রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে আমদানি-রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়ভাবে কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যে রাজনৈতিক কোন্দল ও মতানৈক্য থাকায় পণ্য আমদানি-রপ্তানি ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটায় যার প্রভাব অনেক সময় রাজস্ব বৃদ্ধির ওপর পড়ে থাকে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবদুল আওয়াল জানান, ‘দীর্ঘ ১২ বছর অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন হয়নি। স্থানীয় এমপির লোকজন যারা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নয়, তারা চাঁদাবাজি করত। ফলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা এ বন্দর প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন।

এতে আমদানি-রপ্তানি ও রাজস্ব আহরণে প্রভাব পড়েছে। গত নভেম্বর মাসে অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন হয়েছে। এরপর থেকে আমরা কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি।

ফলে আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে, বেড়েছে রাজস্ব। কোনো চাঁদাবাজি নেই, নেই শুল্ক ফাঁকি। কাউকে বাড়তি সুবিধা দেয়া হচ্ছে না।’ তিনি আরও জানান, ‘এ বন্দর নিয়ন্ত্রণ করে বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিমিটেড।

চুক্তি অনুযায়ী অপারেটর এত বছরেও এ বন্দরে আধুনিক ও ভারী কোনো যন্ত্রপাতি বসায়নি। সেবা বৃদ্ধি না করলেও প্রতিবছর বন্দর মাশুল পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ফলে অন্য বন্দরের চেয়ে এ বন্দরে আমদানি-রপ্তানি খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নত সেবা ও ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় আমদানি-রপ্তানিকাররা এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বৈষম্য দূর করা হলে বন্দরের ব্যবহার বাড়বে, বাড়বে রাজস্ব।’

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ