৪৫ হাজার টাকার গরুর চামড়ার দাম ৬০ টাকা!

  • 127
    Shares
এবারও চামড়ার নিম্নমুখী দাম। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক:

কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকেই। বিশেষ করে ছাগলের চামড়ার কোনো ক্রেতা নেই । যাও গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে তা ছাগলের চামড়ার দামে।

সাম্প্রতিককালে ২০১৯ সালে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ছিল চামড়ার দরের। এসময় অনেকে প্রতিবাদে নদীতে চামড়া ফেলে দিয়েছিলেন। নানান বিতর্কের কারণে অনেকে মনে করেছিলেন এবার হয়তো কিছুটা বেড়ে স্বাভাবিক হবে চামড়ার দাম। কিন্তু উল্টো আরও পতন হয়েছে রংপুরের পীরগঞ্জ এলাকায়।

মোনাইল গ্রামের ময়নুল ইসলাম জানান, তারা তিনজন মিলে ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কোরবানি দিয়েছেন। সেই চামড়ার দাম ৪০ টাকা দিয়ে দরাদরি শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৬০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ তারা এক সময় খাসির চামড়াই বিক্রি করেছেন ৪০০ টাকায়।

একই গ্রামের খাদেমুল মন্ডল জানিয়েছেন, এক লাখ টাকা দিয়ে কেনা ষাঁড়ের চামড়া অনেক চেষ্টার পর ২০০ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন। ২০১৯ সালে একই ধরনের চামড়া ৪০০ টাকা বিক্রি করেছিলেন।

কাশিপুর গ্রামের বাদশা মিয়া বলেন, ৫১ হাজার টাকার গরুর চামড়া ১৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন। বাদশা মিয়া দাবি করেন, এবার চামড়ার ক্রেতাই নাই। অন্যান্য বছরগুলোতে ১০-১৫ জন ফড়িয়া আসতো চামড়া কিনতে।

তিনি আরও জানান, তারা দরদাম করে চামড়া কিনে নিয়ে যেতো কিন্তু এবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাত্র ২ জন ক্রেতা এসেছে। মনে হয়েছে চামড়া ছেড়ে দিতে পারলে বাঁচি। ব্যাপারী ১৫০ টাকা দিয়ে চলে গেছে। বলেছে যদি বেশি দাম কেউ করে তাকে দিয়ে দিয়েন। আমি পরে এসে টাকা ফেরৎ নিয়ে যাবো।

এই অঞ্চলের পুরনো সংস্কৃতি হচ্ছে, কোরবানির চামড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেনেন ক্রেতারা। সকাল ১০টার পর থেকে ব্যাপারীরা গ্রামে গ্রামে ঘুরতে থাকেন। তখন অনেক গরুর চামড়া পুরোপুরি রেডি না হলে টাকা দিয়ে চলে যেতেন বিকেল নাগাদ সংগ্রহ করতেন।

আবার এক শ্রেণির ব্যাপারী ছিলেন যারা ঈদের গরুর হাটে ঘুরে ঘুরে চামড়ার দাম ঠিক করে বায়না দিতেন। দুই তিন বছর আগেও এমন ব্যাপারীদের দৌড়ঝাঁপ দেখা গেছে। কিন্তু চামড়ার দর পড়ে যাওয়ায় এখন আর ক্রেতার দেখা মিলছে না। গরুর যখন ত্রাহী অবস্থা ছাগলের চামড়া কেউ কিনছে না। জাহাঙ্গীর হোসেনসহ অনেকে ছাগলের চামড়া মাটি চাপা দিয়েছেন।

অথচ বছর তিনেক আগেও গরুর চামড়া এক হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। আর খাসির চামড়া ৫০০ টাকা পর্যন্ত কেনাবেচা হয়েছে। এখন বড় একটি গরুর চামড়া বিক্রি করেও সে সময়ের খাসির চামড়ার টাকা মিলছে না।

সোনালী সংবাদ/এইচ.এ

শর্টলিংকঃ