২য় দিনের মতো আমরণ অনশন অব্যাহত, অসুস্থ ৩৫ শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। টানা দুই দিনের অনশনে এ পর্যন্ত ৩৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও অন্তত ১০ শিক্ষার্থীকে আন্দোলনস্থলে স্যালাইন দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত বুধবার সকাল থেকে বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ফলিত পরিসংখ্যান করার দাবিতে স্যার জগদীশচন্দ্র বসু ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেছে পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীরা।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে উপাচার্য ঢাকায় মিটিং স্থগিত করে ক্যাম্পাসে আসেন। দুপুর একটা নাগাদ উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান অনশনস্থলে যান। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের সোমবার জরুরি সভা ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে অনশন স্থগিতে অনুরোধ জানান।
উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের নাম পরিবর্তনের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এটি উপাচার্য বা অন্য কারও একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। আগামী সোমবার সিনেট ভবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা করব।
কিন্তু শিক্ষার্থীরা আজকের মধ্যে সভা ডেকে আলোচনার দাবি করেন। বিভাগের নাম পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এক পর্যায়ে উপাচার্য ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সন্ধ্যায় ফের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান অনশন স্থগিতের অনুরোধ করেন। সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করবে না বলেন জানান শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনরত তৃতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী প্রবাল বলেন, অনশন কর্মসূচি শুরুর পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যদ্বয়, ছাত্র উপদেষ্টা ও প্রক্টর কয়েক দফা শিক্ষার্থীদের কাছে কর্মসূচি স্থগিতে অনুরোধ করেন। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপচার্য স্যার এসে দুই মার্চ আলোচনার কথা বলেন। কিন্তু আমরা আলোচনায় বিশ্বাসী না। বিভাগের নাম পরিবর্তনের অঙ্গীকার করলে আমরা অনশন স্থগিত করবো।
শিক্ষককে হুমকির অভিযোগ
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করায় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ফরিদ খানকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক তারেক নূরের বিরুদ্ধে।
প্রত্যক্ষদর্শি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অনশন চলাকালে অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেক নূর তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং দাঁত ভেঙে দেয়ার হুমকি দেন।
অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, শিক্ষার্থীদের অনশনের ব্যাপারটি জেনে আমি তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করি। এমন সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তারেক নূর আমাকে ফোন দিয়ে উঠে যেতে বলেন। আমি এরপরেও সেখানে অবস্থান করলে তিনি আমার দিকে মারার জন্য তেড়ে আসেন। এসময় তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেয়ার হুমকি দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহযোগী অধ্যাপক তারেক নূর বলেন, ওই বিভাগের বিষয়টি পিওরলি অ্যাকাডেমিক। বিষয়টি ছাত্র-শিক্ষকের দ্ব›দ্ব নিয়ে। তাই আমি তাকে চলে যেতে বলেছিলাম। তবে আমি সেখানে যাওয়ার পর, তিনি আমাকে ইশারায় তার পাশে সংহতি জানানোর জন্য বলেন। এতে আমি একটু কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলি।
প্রসঙ্গত, পিএসসি-তে বিষয় কোড অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ফলিত পরিসংখ্যান করার দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছে তারা।

শর্টলিংকঃ