১৮ ফেব্রæয়ারিকে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ ঘোষণার দাবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শহিদ শামসুজ্জোহার মৃত্যু দিবস ১৮ ফেব্রæয়ারিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জোহা চত্বরে ‘রাজশাহী ইউনিভার্সিটি একডুকেশন ক্লাব’ আয়োজিত মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জোহা মানে আদর্শ, জোহা মানে চেতনা, জোহা মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। তিনিই প্রথম শিক্ষার্থীদের দেখিয়ে ছিলেন কীভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়। কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয়। শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে জোহা নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় তার মৃত্যুর চার যুগ অতিক্রান্ত হলেও জাতীয়ভাবে এখনো শহিদ জোহার আত্মত্যাগের মূল্যায়ন হয় নি। বক্তারা আরও বলেন, শহিদ জোহা আর বর্তমান সময়ের শিক্ষকদের আদর্শ যদি মেলাতে যাই দেখা যাবে তার আদর্শের কাছে কেউ নেই। বসন্তের মাসে তার রক্তে এই ক্যাম্পাস রঞ্জিত হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষকরা দল দাসে পরিণত হয়েছে। তারা পদ-পদবি পাওয়ার জন্য রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকেন। শিক্ষার্থীদের অধিকারের চেয়ে রাজনৈতিক সুবিধা তাদের কাছে বেশি গুরুত্ব পায়। মানববন্ধন থেকে বক্তারা ১৮ ফেব্রæয়ারিকে অনতিবিলম্বে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান।
রাবি একডুকেশন ক্লাবের সদস্য রেজওয়ানুল আলম রিজভীর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন, সংগঠনের সদস্য শামস আল গালিব, ফুয়াদ পাবলো, শাহিনুর খালিদ, শিক্ষার্থী মাহমুদ সাকী।
মানববন্ধনে সংগতি জানিয়ে বক্তব্য দেন, রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহŸায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর, রাবি শাখা বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি রনজু হাসান, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহাব্বত হোসেন মিলন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রæয়ারি পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে শহিদ হন তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. সৈয়দ মুহাম্মদ শামসুজ্জোহা। প্রতিবছর এই দিনটিকে রাবিতে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

শর্টলিংকঃ