১২ ঘণ্টার ব্যবধানে বক্তব্য পাল্টালেন বিভাগের সভাপতি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভাগের সভাপতির প্রতিশ্রæতি ও উপাচার্যের আশ্বাসে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে অনশন স্থগিত করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানের উপস্থিতিতে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মÐল বলেন, শিক্ষার্থীদের এ যৌক্তিক দাবির সঙ্গে শিক্ষকরা রয়েছে। আগামী ২ মার্চ উপাচার্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে একটি সুন্দর সমাধান আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
কিন্তু ১২ ঘণ্টা ব্যবধানে ভোল পাল্টান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মÐল। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু অ্যাকাডেমিক ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি দাবি করেন, পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ফলিত পরিসংখ্যান করার দাবি ‘অযৌক্তিক’।
বিভাগের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মÐল বলেন, পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের মোট ক্রেডিট ১৬০। যার মধ্যে তত্ত¡ীয় ১২৮, ব্যবহারিক ২৪ ও মৌখিক ৮। তত্ত¡ীয় ক্রেডিটের ৬৪ ক্রেডিট পপুলেশন সায়েন্স, ১৬ ক্রেডিট হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, ২০ ক্রেডিট পরিসংখ্যান এবং বাকি ক্রেডিটগুলো সাবজেক্ট রিলেটেড। ঢাবির ফলিত পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ¯œাতকের সিলেবাসের সঙ্গে রাবি’র পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সিলেবাসের মাত্র ২০.৩ শতাংশ মিল রয়েছে। তাই বিভাগের নাম পরিবর্তনের কোন যৌক্তিকতা নেই।
১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মÐল বলেন, আজকে যেটি বলা হয়েছে, সেটি অ্যাকাডেমিক কমিটির সামগ্রিক সিদ্ধান্ত। বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবি অযৌক্তিক হলে ২ মার্চ বৈঠক ডাকার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আশরাফুল আলম খান বলেন, বৈঠক ডেকেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমরা কখনোই বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবি নিয়ে আলোচনায় বসার কথা বলিনি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা বিষয় কোডের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিল। সেটি যৌক্তিক দাবি হওয়ায় বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে নিয়ে কাজ করেছে। পিএসসিতে বিষয় কোড অন্তর্ভুক্তকরণের প্রক্রিয়াও অনেকদূর এগিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ২ মার্চ বৈঠকের পূর্বে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আশরাফুল আলম খান, অধ্যাপক নুরুজ্জামান হক, অধ্যাপক আব্দুল গণি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ জানুয়ারি থেকে পিএসসিতে বিষয় কোড অন্তর্ভুক্তির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে লাগাতার অবস্থান, মানববন্ধন, মিছিল কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরে গত ২৬ ফেব্রæয়ারি থেকে বিভাগের নাম পরিবর্তনের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

শর্টলিংকঃ