হোম কোয়ারেন্টাইনে অনীহা প্রবাসীদের খোঁজে প্রশাসন

স্টাফ রিপোর্টার: করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিদেশ ফেরতদের অন্তত ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু রাজশাহী বিভাগের অনেক প্রবাসী দেশে এসে হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন না। নির্দেশনা অমান্য করে অনেকেই বাড়িতে না থেকে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এদের খোঁজ পেতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
ফলে নতুন নতুন বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যাচ্ছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, শনিবার সকাল থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৬৯ জনকে শনাক্ত করা গেছে। গত শনিবার পর্যন্ত বিভাগে হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা ২২৬ জন থাকলেও গতকাল রোববার এই সংখ্যা ১ হাজার ৪৯৫ জন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য বলেন, বিদেশ থেকে এসেই অনেকে আর ঘরের ভেতর থাকতে চাইছেন না। তারা এখানে-ওখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের সঠিক তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ, ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে তাদের তথ্য নিতে হচ্ছে। তারপর তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রবাসীরা আন্তরিক না হলে এটা নিশ্চিত করা কঠিন।
এদিকে জেলা ও নগর পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত ১৫ দিনে শুধু রাজশাহী শহরে বিদেশ ফেরত প্রবাসী ব্যক্তির সংখ্যা এখন ৮০৯ জন। নগরীর ১২টি থানা এলাকায় রয়েছেন এই ব্যক্তিরা। আর গোটা জেলায় এখন অবস্থান করছেন আরও ১ হাজার ৩০৮ জন। কিন্তু রোববার শুধু রাজশাহী জেলা ও মহানগরে শনাক্ত করা গেছে ৭৬ জনকে। বাকিদের খোঁজ পেতে চেষ্টা করছে প্রশাসন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের তথ্য মতে, গতকাল বিভাগের নাটোর জেলায় ১০৮ জন, বগুড়ায় ১৩০ জন, সিরাজগঞ্জে ৬৮ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৩৬ জন, জয়পুরহাটে ১৪ জন, নওগাঁয় ৮৮৪ জন এবং পাবনায় ৭৯ জন বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের জ¦র, সর্দি, কাশির মতো উপসর্গ রয়েছে। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এখনও অনেকেই বিদেশ ভ্রমণ করে এসে বাইরে ঘুরে বেড়িয়ে করোনার ঝুঁকি বাড়িয়ে চলেছেন।
এর মধ্যে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোকবুল হোসেনই এমন কাÐ করেছেন। এ নিয়ে দারুণ সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
জানা গেছে, দুই সপ্তাহের কানাডা সফর শেষে গত ১১ মার্চ রাতে দেশে ফেরেন ড. মোকবুল হোসেন। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ মার্চ পর্যন্ত তার হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা। কিন্তু দেশে ফিরেই তিনি বসেছেন নিজ কার্যালয়ে। অংশ নিয়েছেন আলোচনা সভা, কেককাটা, ম্যুরাল উদ্বোধন এমনকি প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানেও। ফলে তার সংস্পর্শে এসেছেন ওইসব অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ জেলার ভিআইপি ব্যক্তিরা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জেলা প্রশাসন এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে তিরষ্কার করা হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য বলেন, শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান যেটি করেছেন, তা একেবারে উচিত নয়। কারণ তার সংস্পর্শে যেসব ব্যক্তি এসেছেন, তারাও এখন এক ধরনের শঙ্কার মধ্যে পড়ে গেলেন। তার সাথে যোগাযোগ হয়েছে, তিনি এখন থেকে সব নিয়ম মেনে চলবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনে অনীহার কারণে এখনও অনেকে তাদের ট্রাভেল হিস্ট্রি গোপন করে থাকছেন। তাদের শনাক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে। আর যারা শনাক্ত হয়েছেন তারা নিয়ম না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শর্টলিংকঃ