হেফাজত সংশ্লিষ্টতায় পদ হারাতে পারেন আওয়ামী লীগের অনেকেই

  • 23
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: হেফাজত ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে সরকার দলীয় কেউ যদি হেফাজত সমর্থক হন, তাকেও রেহাই দেয়া হবে না। বিগত কয়েকদিনের নানা ইস্যুতে আওয়ামী লীগের কেউ যদি হেফাজতকে কোনো ভাবে সহযোগীতা করে থাকেন, তার পদ কেড়ে নেয়া হতে পারে।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারনি বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এদিকে জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি নীতিনির্ধারণী বক্তব্য রেখেছেন। তিনি হেফাজত সম্পর্কে তার, তার দলের এবং সরকারের অবস্থান সুস্পষ্ট করেছেন। এর ফলে এটি অবধারিত হয়ে গেছে যে সরকার হেফাজতের সাথে আর কোনো সমঝোতা করবে না।

জানা গেছে, ইতিমধ্যে হেফাজত সমর্থনকারী কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এখন দলের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত পন্থীদের নতুন করে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগের অনেক অনুপ্রবেশ ঘটেছে এবং একটি অনুপ্রবেশ অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়েছে তা হলো হেফাজতের অনুপ্রবেশ।

সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে হেফাজতের প্রচুর কর্মী আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে। এরা যতোই আওয়ামী লীগের হয়ে যাক না কেন, বঙ্গবন্ধুর কথা বলে চিৎকার করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত যখন কোনো সমস্যা হয় তখন তারা হেফাজতের পক্ষ অবলম্বন করে। সাম্প্রতিক ঘটনা তার একটি বড় প্রমাণ।

আর এ কারণেই আওয়ামী লীগে গত এক যুগে যারা হেফাজতপন্থী এসেছেন তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, এতদিন ধরে আমরা আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিএনপি এবং জামায়াত পন্থীদের চিহ্নিত করতাম। কিন্তু এখন আর একটি তৃতীয় ধারার পাওয়া যাচ্ছে। তার হলো হেফাজতপন্থী। এরা আওয়ামী লীগে এসেছে সংগঠনের দুর্বল করে দেয়ার জন্য। বিভিন্ন সংকটের সময়ে, হেফাজতের তাণ্ডবের সময়, এদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

একাধিক সূত্র বলছে যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চট্টগ্রামে তাণ্ডবের সময় আওয়ামী লীগের ভূমিকা কি ছিলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এটি সঠিকভাবে খতিয়ে দেখা হলে নিঃসন্দেহে অনেককে পাওয়া যাবে যারা আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে নানা রকম সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন কিন্তু আসলে তারা হেফাজতের পক্ষে কাজ করেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা মনে করছেন যে, একজন মুসলমান হিসেবে ধর্ম-কর্ম করাটা অবশ্য পালনীয়।

ধর্মের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো বিরোধ নেই বরং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ধর্মপ্রাণ মুসলমান। যারা যে ধর্মে বিশ্বাসী হোক না কেন, তারা সেই ধর্ম পালন করবে। এটির সাথে রাজনীতির বা আওয়ামী লীগের কোনো সংঘাত নেই। কিন্তু হেফাজতের মূল যে লক্ষ্য এবং অভিপ্রায় এখন স্পষ্ট হয়েছে সেটি হলো, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী একটি অবস্থান নিয়েছেন। আর এই অবস্থানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘাত অনিবার্য।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ