হিরোইন থেকে ভিলেন মিন্নি

  • 14
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: বরগুনার চাঞ্চল্যকর শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি চার আসামিকে খালাস দেয়া হয়। বুধবার বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে বেলা সোয়া ১টায় বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান আদালতে রায় পড়া শুরু করেন। এ মামলায় কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকে বেলা ১২টা ৫০ মিনিটে আদালতের এজলাসে উঠানো হয়।

রিফাত হত্যাকাণ্ডের পর তার বাবা যে মামলা করেছিলেন, সেখানে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ছিলেন এক নম্বর সাক্ষী। তবে পুলিশের তদন্তের পর, স্বামীর হত্যা মামলার সাক্ষী থেকে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে চার্জশিটে ৭ নম্বর অভিযুক্ত করা হয়। এক পর্যায়ে গত বছরের ১৭ জুলাই আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়। প্রায় দেড় মাস জেল খাটার পর হাইকোর্টের আদেশে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্ত হন মিন্নি।

মামলার রায়ে মিন্নি ছাড়াও এই মামলায় আরো পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। তবে সবচেয়ে আলোচনা হয়েছে মিন্নিকে নিয়ে। তার মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ক্ষেত্রে আদালত রায়ে কী বলেছেন- তা নিয়েও বক্তব্য তুলে ধরেছেন দুই পক্ষের আইনজীবীরা।

মামলায় সরকারি আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর ভুবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি তার স্বামীকে হত্যার ‘ষড়যন্ত্র’ এবং ‘পরিকল্পনায়’ যুক্ত ছিলেন, সেটা প্রসিকিউশন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন। মিন্নি ছিলেন ঘটনার মুল পরিকল্পনাকারী এটি আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন।

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী মাহবুব বারী আসলাম বলেন, মিন্নির মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ব্যাপারে আদালত বলেছে, ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলে যখন তার স্বামী রিফাত শরীফ উঠছিল, তখন মিন্নি মোটরসাইকেলে না উঠে পেছনের দিকে যায়। সে সময় রিফাত শরীফ তার পিছনে পিছনে দৌড়ে যায়। পরবর্তীতে অন্য আসামিরা রিফাত শরীফকে ধরে নিয়ে আসে টানাহেঁচড়া করতে করতে। তখন মিন্নি স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিল। এরপরে ঘটনা ঘটে।

তিনি আরো বলেন, হামলার মুখে তার স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি – যা ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল এবং তা তখন ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু সে বিষয়টি কতটা বিবেচনা করা হয়েছে, তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।

তবে এ রায়ে সন্তুষ্ট নন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, তার মেয়ে এই মামলায় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি এবং হাইকোর্টে আপিল করবেন বলেও জানান।

আালোচিত এই হত্যাকাণ্ড ঘটে গত বছরের ২৬শে জুন বরগুনার কলেজ রোডে। প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফের উপর হামলা হয় নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে।

এ মামলার প্রধান আসামি ছিলেন সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড। তিনি গত বছর জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ