হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি হয় কি ভাবে?

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই শক্তিশালী। পাস ছাড়া হাসপাতালে প্রবেশ করা কঠিন। গেটে কড়া পাহারা। হাসপাতাল জুড়ে আছে সিসিটিভি ক্যামেরা। তারপরও নবজাতক চুরি হয়েছে। এবারই প্রথম নয়, আগেও হয়েছে।

গত শুক্রবার সকালে রামেক হাসপাতালের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৩ দিনের এক কন্যা শিশু চুরি হয়েছে। অচেনা এক নারী তার সন্তান নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রসূতি মা। তিনি রবিদাস সম্প্রদায়ের নারী। স্বামী হাসপাতালের সামনেই মুচির কাজ করেন। প্রথম সন্তান হারিয়ে দম্পত্তি এখন দিশেহারা।

অথচ গাইনি ওয়ার্ডগুলি ঘিরেই আছে ৫টি সিসিটিভি। আর হাসপাতাল জুড়ে আছে ৭৫ টি সিসিটিভি ক্যামেরা। তাছাড়া ১০০ আনসার সদস্য ছাড়াও কাজ করেন নিরাপত্তা কর্মীরা। তারপরও নবজাতক চুরির ঘটনা নিরাপত্তায় অবহেলাই প্রমাণ করে।

রামেক হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরির ঘটনা মোটেই নতুন নয়। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৩ সালেও হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড থেকে নবজাতক চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে। কিন্তু নবজাতক চুরি বন্ধ হয়নি।

হাসপাতালের ১০০ আনসার সদস্য গেটসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। গেটে তাদের যতটা সক্রিয় দেখা যায় ওয়ার্ডে তেমন থাকলে অন্তত নবজাতক চুরির ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না। তারা ঠিক কি কাজে ব্যস্ত থাকেন সেটা দেখা দরকার। ওয়ার্ডের নিরাপত্তায় যে কারও চোখ নেই, সেটা পরিষ্কার। তাছাড়া হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স, আয়াও রয়েছেন। সবার চোখের সামনে দিনের আলোতে নবজাতক চুরির ঘটনা পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ না করে পারে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় একদিন পর শেষ পর্যন্ত চুরি যাওয়া নবজাতক উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। কোলের ধন ফিরে পেয়ে বাবা-মায়ের উৎকণ্ঠার অবসান হয়েছে। কিন্তু আবারও যে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে?

রামেক হাসপাতালের মত নামকরা হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক-ফোকর খুঁজে বের করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অবহেলা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলা যাবে না। সব কিছুই যদি ঠিক থাকবে তবে হাসপাতাল থেকে বার বার নবজাতক চুরি হয় কি ভাবে?

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ