হাসপাতালে কেন রোগী নির্যাতন?

হাসপাতালে মানুষ যায় চিকিৎসা সেবা পেতে। কিন্তু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে একের পর এক রোগী ও তার স্বজনদের লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে। হাসপাতালের এমন অবস্থা নিয়ে কারোই মাথা ব্যথা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এ মাসের শুরুতেই রামেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিনা চিকিৎসায় মায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। সে সময় বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাকেও লাঞ্ছিত হতে হয়। এর প্রতিবাদে শহরে মুক্তিযোদ্ধাসহ নাগরিকদের ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত মামলা হয়। অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। তখন প্রশাসনের উদ্যোগে বিষয়টি মিটমাট হয়। চিকিৎসকরা ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় জড়াবেন না বলেও কথা দেন।

কিন্তু মাস শেষ হবার আগেই গত শুক্রবার চিকিৎসাধীন বঙ্গবন্ধু কলেজের এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। চিকিৎসকরা আনসার ডেকে রোগীকে লাঞ্ছিত করে। চিকিৎসায় অবহেলার কথা বলাই ছিল তার অপরাধ। এর আগেও রোগী ও স্বজনদের সাথে বিবাদ-বিসম্বাদে জড়িয়েছিলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এ সব ঘটনার খবর নিতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের ওপরও তারা চড়াও হয়েছিলেন। হাসপাতালে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছিল সাংবাদিকদের জন্য। এখনও সে অবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। হাসপাতালের পরিচালক সাংবাদিকদের ফোন ধরেন না। এমন অসুস্থ পরিবেশে হাসপাতালটি আর কতদিন থাকবে সেটাই প্রশ্ন!

রাজশাহী বিভাগের প্রধান সরকারি হাসপাতালটির এমন অবস্থা যদি স্থায়ী হয় তবে সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হবে, সন্দেহ নেই। রামেক হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা উচ্চপদস্ত ব্যক্তিবর্গ, স্বাস্থ্যবিভাগ ও মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই অবিলম্বে স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসবেন এটাই সবার কাম্য। রোগী নির্যাতন বন্ধ হয়ে হাসপাতাল হয়ে উঠুক রোগী বান্ধব। ফিরে আসুক স্বাভাবিক পরিবেশ।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ