হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপে ভয়াবহ করোনাভাইরাস

উচ্চ রক্তচাপে কোভিড সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক:

চিকিৎসক ও গবেষকদের অনেক ধারণাই আর খাটছে না কোভিড-১৯ সংক্রমণের ক্ষেত্রে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪২জন মারা গেছেন। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ১১৪ জন।

ভয়াবহ এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন আনুসাঙ্গিক রোগ অর্থাৎ কো-মর্বিডিটি নিয়ে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের ন্যাশনাল হেল্‌থ প্রোফাইল অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল দু’লাখ ৮৫ হাজার ১৩৪। বাংলাদেশে সেই হিসেবে আরও বেশি।

বিভিন্ন দেশে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে যে সমস্ত মানুষের, তাঁদের ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকগুণ বেশি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও জানাচ্ছেন সেই শঙ্কার কথা।

দীর্ঘদিন ধরে রক্তচাপজনিত অসুখ বা হাই ব্লাড প্রেসারের সমস্যায় ভুগছেন, সেই সমস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে লিঙ্গ, বয়স নির্বিশেষে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি।

এই সমস্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কেন বেশি, এই নিয়ে ক্লিনিক্যাল মেডিসিন জার্নালের রিসার্চ বলছে, উচ্চ রক্তচাপ মানেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। তাই ভাইরাস যুদ্ধে জয়ের সম্ভাবনাও কম। এর মধ্যে ৬০ বছর বয়স পেরিয়ে গেছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দুই তৃতীয়াংশই উচ্চ-রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন বিশ্বজুড়ে।

চীনে করোনা আক্রান্ত রোগীদের ২০ থেকে ২২ শতাংশ উচ্চ-রক্তচাপের সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন। ইতালির ক্ষেত্রে তা ৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ সংক্রমণের সম্ভাবনা মারাত্মক রকম ভাবে বেশি।

উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে যাঁদের, তাঁদের ক্ষেত্রে মাস্ক না পরা মৃত্যুকে ডেকে আনার শামিল, সেটাও বলছেন চিকিৎসকরা। কলকতার মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাসের বক্তব্য, আনুসাঙ্গিক রোগ হাই ব্লাড প্রেসার। তাই জীবাণু প্রবেশ করলে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও ক্ষীণ।

সেক্ষেত্রে শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া অর্থাৎ স্যানিটাইজ়ার এবং বার বার হাত ধোওয়ার নিয়ম মেনে চলতে হবে। সংক্রমণ তো বটেই, শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে নিয়ম না মেনে চললে।

আরও পড়ুন: দেশে তৈরি করোনা টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের উদ্যোগ

ভাইরাস একবার বংশবৃদ্ধি করলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলিকে নষ্ট করে দিতে পারে সহজেই। অতএব, মাস্ক না পরে বেরলে সংক্রমণের সঙ্গে ফ্যাটালিটি অর্থাৎ মৃত্যুর সম্ভাবনাও রয়েছে, এমনই জানান  অরিন্দমবাবু।

আরেক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অভিজিৎ রায় চৌধুরী বলেন, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ওষুধের ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম চলবে না। ডায়াবিটিসের সমস্যাও শুরু হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডায়াবিটিস রয়েছে কি না, নিয়মিত তা মনিটর করে নেওয়া ভাল।

আরও পড়ুন: এইচএসসি পাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ১৬৫০ জন নিয়োগ

অভিজিৎ রায় আরও বলেন, লিঙ্গ নির্বিশেষে বয়সও একটা বড় ফ্যাক্টর উচ্চ-রক্তচাপের ক্ষেত্রে। তিরিশের কোঠায় বা চল্লিশের কোঠায় যাঁদের বয়স, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে করোনা আবহে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে তাঁদেরও।  মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা, বার বার হাত ধোওয়ার সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

ভিড় এড়াতেই হবে। ভিড়ে মাস্কবিহীন ভাবে উচ্চ রক্তচাপের কোনও রোগীর যাওয়ার অর্থ— মৃত্যুকে ডেকে আনা। দিনে দু’বার রক্তচাপ মনিটর করার পরামর্শও দিয়েছেন ডা. অভিজিৎ রায়।

তিনি আরও বলেন,  কারণ উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা মানে কিডনির স্বাভাবিক ক্রিয়ায় প্রভাব পড়বেই। নজর রাখতে হবে সেদিকেও। এ ছাড়াও সেরিব্রাল ইনফার্কশন বা স্ট্রোক হতে পারে যে কোনও সময়। অ্যাকিউট ইনফার্কশনও হতে পারে।

দ্য অ্যামেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি অ্যান্ড অ্যামেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জানাচ্ছে, একদিকে করোনা আবহ। তার মধ্যে রক্তচাপের সমস্যায় সময় মতো ওষুধ না খেলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনা আগের থেকে অনেকটাই বেশি।

আরও পড়ুন: প্রেমিকের সাথে টিকটক তারকা নিশার অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল

কারণ মানসিক উদ্বেগও এই সময়ে অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। সে ক্ষেত্রে মাস্ক না পরে সংক্রমণ হলে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুও হতে পারে। তাই বার বার নিয়ম মেনে চলতে বলছেন চিকিৎসকরা। বলছেন, সতর্ক থাকতে। -খবর আনন্দবাজার

সোনালী সংবাদ/এইচ.এ

শর্টলিংকঃ