সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে

  • 6
    Shares

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা-নিয়ামতপুর-শিবপুর-পোরশা রাস্তা প্রশস্তকরণ সড়কের ৮৭ কোটি ৩৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৬ কিলোমিটার রাস্তার কাজ দীর্ঘ দুই বছরেও শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার কাজ বন্ধ থাকায় জনসাধারণের চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

কাজ শুরুর ২ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত অর্ধেক কাজও হয়নি অভিযোগ পথচারী ও যানবাহন মালিকদের। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খোয়া পাথর উঠে গিয়ে প্রতিনিয়ত সাইকেল,মোটরসাইকেল, আটোভ্যান-রিকশা ও ভারী যানবাহনের টায়ার নষ্ট হচ্ছে। কুচরি ইট-পাথরের ওপর ব্রেক করতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওগাঁর এ সড়কটি (মান্দা-নিয়ামতপুর-শিবপুর-পোরশা) ছিল এলজিইডির আওতায়। কিন্তু সড়কে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল এবং দীর্ঘ এলাকাজুড়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় চার বছর আগে এলজিইডি থেকে ২৬ কিলোমিটারের এ সড়কটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগে হস্তান্তর করা হয়।

এরপরই সড়কটি প্রশস্ত এবং পাকাকরণের জন্য ২০১৮ সালে দরপত্র আহবান করে সওজ। কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি। সড়কটির ২৬ কিলোমিটার রাস্তায় ৩১টি কালভার্ট ও ৩টি সেতু রয়েছে। রাস্তা, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে সময়সীমা ছিল ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু জুন পেরিয়ে বছর ঘুরে আবার আসছে জুন। বর্তমানে ধুলো-বালি ও ইট পাথরের এ সড়কে দুর্ভোগ তো কমেইনি বরং বেড়েছে। অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদার একের পর এক অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করে যাচ্ছেন কর্তৃপক্ষের নিকট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ২৬ কিলোমিটার সড়কের মাত্র পাঁচ কিলোমিটার নিয়ামতপুর-টিএলবি পর্যন্ত কার্পেটিং করা হয়েছে। বাকী ২১ কিলোমিটার কেবলমাত্র পূর্বের কার্পেটিং তুলে কোন রকমে রোলার করে রাখা হয়েছে যানবাহনের চাকা ঘুরানোর জন্য। দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় পড়ে থাকায় রাস্তা জুড়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রোলার করে রাখা ইট-পাথরের ছোট-বড় খোয়া উঠে যানবাহন চলাচলে হয়ে পড়েছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে সড়কের বেহাল দশার অযুহাতে পরিবহন মালিকরাও দফায় দফায় ভাড়া বৃদ্ধি করছেন। ফলে সড়কের নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, সড়কে কাজের ধীরগতির কারণে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা ভেবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষকে। খাদ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর কাজের কিছু তোড়জোড় শুরু হয়ে ৫ কিলোমিটার কার্পেটিং করা হয়। তারপর আবারও বন্ধ হয়ে যায় কাজ।

এ ব্যাপারে নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে এবং লকডাউনের কারণে লেবার সঙ্কটসহ মালামাল ঠিকমত না পাওয়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ঠিকমত কাজ করতে পারেনি সত্যি। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে এটাও ঠিক। এরপরও ঠিকাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কাজ শুরু না করায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওহেদ কন্সট্রাকসনের বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিলের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত পেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও বিপদজনক মোড়ের বিষয়ে বলেন, ল্যান্ডিং এর অনুমোদন না পাওয়ায় রাস্তার দুধারে কোন স্থাপনা সরানো যায়নি। তবে ল্যান্ডিং এর অনুমোদন পাওয়া গেলে রাস্তার ধারের স্থাপনা সরিয়ে মোড়গুলোকে বিপদমুক্ত করা হবে।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ