- সোনালী সংবাদ - https://sonalisangbad.com -

সড়কে উচ্ছেদ ও পুনর্দখলের খেলা কি চলবেই!

সম্প্রতি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নগরীর ফুটপাত ও রাস্তার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু অভিযানের পর পরই আবারও প্রায় সব কিছু পূর্বাবস্থায় ফিরে আসতে সময় লাগেনি। আবারও ফুটপাত ও সড়ক দখল করে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। এমন উচ্ছেদ অভিযানকে রুটিনওয়ার্ক হিসেবেই দেখছেন নগরবাসী। এ সবই গতকাল সোনালী সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দোকানের মালামাল ফুটপাত ছাড়িয়ে রাস্তার ওপরও রাখেন অনেক শো-রুমের মালিক। ক্ষুদে ব্যবসায়ী, হকাররাও বিভিন্ন পণ্যের পসরা নিয়ে বসেন রাস্তা দখল করেই। পাশাপাশি ছোট-মাঝারি যানবাহনও রাখা হয় রাস্তার ওপরেই। এর ফলে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হয়। মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। আর নগরীতে যানজটের প্রধান কারণও রাস্তা দখল করে রাখা।

তাই অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ চাইলেও তা স্থায়ী না হওয়ায় হতাশ নগরবাসী। উচ্ছেদ অভিযান শেষে চলে যাওয়ার পরই আবার পুনর্দখলে কোনা বাধা না থাকায় এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এর ফলে সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয়কে অপচয় মনে করলে কাউকে দোষ দেয়া যাবে কি? বিষয়টি নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকারীদের মধ্যেও ভিন্নমত প্রকাশ পেয়েছে।

পুনর্বাসন ছাড়া যে উচ্ছেদ অভিযানের স্থায়ী ফল পাওয়া সম্ভব নয়, সেটা কে না বুঝে ! অন্য কোনো কাজ না পেয়ে পেটের দায়েই যে অনেকে ফুটপাতে বসে ব্যবসা করেন সেটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। এই সুযোগে রাস্তার পাশের দোকানদার ও শো-রুমের মালিকরাও ফুটপাত দখল করে কাজে লাগায়। কেউ কেউ তা ভাড়া দিয়েও সুবিধা নিতে ছাড়ে না। আবার চাঁদাবাজির অভিযোগও কারও অজানা নয়। তাই ফুটপাত ও রাস্তা দখলের অবসান চাইলে আগে হকার ও ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তারপর সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে উচ্ছেদ অভিযানে সফলতার দেখা মিলতে পারে।

নগর কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনীতিক, সুশিল সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এমনটা যে আশা করা যায় না, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এক্ষেত্রে যথাযথ উদ্যোগের অভাব সাদা চোখেই দেখা যায়।

তাই পরিকল্পিত উদ্যোগ ছাড়া যে ফুটপাত ও সড়কে অবৈধ উচ্ছেদ ও পুনর্দখলের খেলা চলতেই থাকবে এতে সন্দেহ কি!

 

সোনালী/এমই