স্বাস্থ্যের দুর্নীতিবাজদের বদলি কাল থেকে

  • 52
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: নিয়োগবাণিজ্য, টেন্ডারবাণিজ্য, তদবির ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে শিগগিরই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সরকারের একাধিক সংস্থা তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করছে।

সেই প্রেক্ষিতেই প্রাথমিক শাস্তি হিসেবে আগামী রবিবার থেকে তাদের বদলি করা হবে বলে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক সচিব নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কমিশন স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ থাকা ৪৫ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে। তাদের মধ্যে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে। অন্যদেরও পর্যায়ক্রমে নোটিস দেওয়া হবে। দুদকে জমা হওয়া বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এটাই চূড়ান্ত নয়। নাম আরও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, এই তালিকার বাইরে পিপিই, মাস্ক, যন্ত্রপাতি কেনায় দুর্নীতি, করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রিসহ প্রতারণায় জড়িত রিজেন্ট হাসপাতাল ও জিকেজির বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানে অনেকের নাম বেরিয়ে আসছে। আরও অনেকের নাম আসতে পারে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুদকের সুপারিশ অনুযায়ী এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আদেশের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়। কিন্তু ২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়। এর নেপথ্যে ছিল অধিদপ্তরেরই একটি অসাধু সিন্ডিকেট।

তারা বলেন, যাদের নাম ইতিমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন যাদের তালিকা করেছে তাদেরকে প্রাথমিকভাবে শাস্তিমূলক বদলি করা হবে। এ ছাড়া যারা সরাসরি বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দেওয়া হবে।

বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধানপূর্বক তৈরি করা তালিকা অনুযায়ী বদলির খাতায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান সহকারী সৈয়দ জালাল, জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার ও মো. জাকির হোসেন, হিসাবরক্ষক আতিকুল ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কবির আহমেদ চৌধুরী, অফিস সহকারী ইকবাল হোসেন, এইডস শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন, স্টেনোগ্রাফার শাহজাহান ফকির, প্রোগ্রামার (এমআইএস) রুহুল আমিন, স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রশিক্ষণ ও মাঠ কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের হেলথ এডুকেটর (প্রেষণে অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোতে) কর্মরত মো. জাকির হোসেন, প্রশাসন শাখার অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক শফিকুল ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী আতিকুল ইসলাম। এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে সম্প্রসারিত টিকা কর্মসূচি (ইপিআই) ভবনের অফিস সহকারী তোফায়েল আহমেদ, কমিউনিটি ক্লিনিকের উচ্চমান সহকারী মো. আনোয়ার হোসেন, ফাইভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্পের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহেল কাফী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, শেরেবাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মাহামুদুজ্জামান ও একই হাসপাতালের গুদাম কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন। খুলনার শেখ আবু নাসের হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী আসিক নেওয়াজ, ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জালাল মোল্লা, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের হিসাবরক্ষক মো. মারুফ হোসেন, গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গুদাম কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিন, রাজশাহীর পরিচালক (স্বাস্থ্য) দপ্তরের প্রধান সহকারী মো. হেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের গুদাম কর্মকর্তা মো. সাফায়েত হোসেন ফয়েজ, খুলনা বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) দপ্তরের স্টেনোগ্রাফার মো. ফরিদ উদ্দিন, একই দপ্তরের প্রধান সহকারী মো. মাহাতাব হোসেন ও পরিচালক (স্বাস্থ্য) ঢাকা বিভাগীয় দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীপক কান্তি।

অধিদপ্তরের ইপিআই বিভাগের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. মজিবুল হক মুন্সি, ইপিআই গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওবাইদুর রহমান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের স্টাফ নার্স রেহেনা আক্তার, রংপুর মেডিকেল কলেজের হিসাবরক্ষক ইমদাদুল হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অফিস সহকারী (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) কামরুল হাসান, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের স্টেনোগ্রাফার কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. সাইফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রধান (নন-মেডিকেল) বর্তমানে সহকারী প্রধান পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, পরিচালক (স্বাস্থ্য)-এর কার্যালয়, বরিশাল বিভাগ মীর রায়হান আলী এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ