স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালানোর দাবি!

লকডাউনের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার কারণে দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ কমতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিনে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার নিচে নেমে এসেছে। ফলে লকডাউন ঢিলেঢালা হয়েছে। দোকানপাট-মার্কেট খুলেছে, রাস্তায়, জনসমাগম বেড়েছে, বাজারে উপচে পড়া ভিড়। সর্বত্রই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত।

মাস্ক পরার সংখ্যা বাড়লেও সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। কাঁচাবাজার, দোকানপাটে মানুষের গাদাগাদি ভিড় চোখে পড়ার মত। স্বাস্থ্য সচেতনতার দিকে খেয়াল নেই কারও। রোজা ও ঈদের কেনা বেচায় ব্যস্ত সবাই। এর মধ্যে দাবি উঠেছে গণপরিবহন চালুর।

করোনায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সড়ক পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কোন প্রকার সাহায্য-সহায়তা না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে পরিবহন শ্রমিকদের। এর মধ্যেই দোকানপাট খুলে গেলেও কেন সড়ক পরিবহন বন্ধ সে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। স্বাস্থবিধি মেনে গাড়ি চালানোর দাবিতে রোববার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সেখানে তুলে ধরা ৩ দফা দাবিতে স্বাস্থবিধি মেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা, সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা এবং ১০ টাকার ওএমএসের চাল দেয়ার কথা রয়েছে।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যাদের জীবিকা বন্ধ রাখতে হচ্ছে তাদের বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করার বিরোধিতা কেউই করবেন না। কিন্তু এই যৌক্তিক ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে খেটে খাওয়া মানুষদের বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠার জন্য নিঃসন্দেহে তাদের দায়ি করা যায় না। বিষয়টা অবশ্যই গুরুত্বসহকারে বিবেচনার দাবি রাখে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি ভিন্ন।

এর আগেও দেখা গেছে লকডাউন শিথিল করে পরিবহন চালু হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় তাদের চরম অনিহা। বাসে যাত্রী বহনের বিধি নিষেধ উপেক্ষা করায় যাত্রীদের সাথে ঝগড়া-বিবাদ-বচসাও কম হয়নি। বাজার, দোকান পাটেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষার চিত্র সর্বত্রই। অথচ এ রকম কথা ছিল না। এ অবস্থায় করোনা নিয়ন্ত্রণে ঢিলেমি কতটা বিপদজনক হতে পারে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যেখানে ঈদের সময় গণপরিবহন বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে তখন শ্রমিকদের গাড়ি চালানোর দাবি ভেবে দেখার বিষয়। পরিবহন শ্রমিকসহ শ্রমজীবীদের বেঁচে থাকার ব্যবস্থা, অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দিতে জরুরি পদক্ষেপ অবশ্যই নিতে হবে। এর পাশাপাশি পরিবহন চালুর পরিকল্পনা এমনভাবে করতে হবে যাতে তা করোনা সংক্রমণ বিস্তারের হুমকি সৃষ্টি না করে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গাড়ি চালানোর বিষয়টা মৌখিক বিষয় না করে যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

 

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ