স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা বিপদের কারণ না হয়

 রাজশাহীসহ সারাদেশে এখনও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। সংখ্যায় কম হলেও এতে বিপদ কেটে যাবার কথা ভাবছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাই মাস্কের ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলায় আসন্ন শীতে পরিস্থিতি জটিল হবার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক বে-নজীর আহম্মদের মতে কোভিড ছাড়াও অন্য করোনাভাইরাসগুলো সাধারণত শীতকালে একটু বেশি দেখা যায়। ফলে এবার কোভিডের সঙ্গে ওইসব করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে আসন্ন শীতে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবৃদ্ধিতে ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়ছে। শীতে অ্যাজমা, নিউমোনিয়া রোগীদের ঝুঁকি বাড়াবে করোনা।

এমন অবস্থায় সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, রাস্তাঘাট, মার্কেট, বাজার, গণপরিবহনে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বিপদের কারণ হতে পারে, এটা অস্বীকার করা যাবে না। নানাবিধ সমস্যা এবং করোনা সচেতনতা কমে যাওয়াতে নমুনা পরীক্ষাও কমে গেছে। করোনার উপসর্গ থাকলেও তা পরীক্ষা করছেন না অনেকেই। ফলে আসন্ন শীতে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরাও।

করোনারোধে মাস্ক ছাড়া কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেবা না দেয়ার সরকারি নির্দেশও যথাযথভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে বলা যাবে না। মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে চোখে পড়ার মত প্রশাসনিক তৎপরতাও নেই। সবক্ষেত্রেই এমন ঢিলেঢালা অবস্থার ফল কি হতে পারে ভেবে দেখার বিষয়।

ইউরোপের অনেক দেশেই এমন অবস্থা দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণের বিপদ ডেকে এনেছে। সেখানে এখন কড়াকড়ি করেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। আসন্ন শীতে এখানকার অবস্থা কি হয় সেটা এখনই বিবেচনায় নিতে হবে। মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবার আগেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ