স্ত্রীর চিকিৎসা চলাকালীন মাধুরীর প্রেমে পড়েন সঞ্জয়

  • 21
    Shares

অনলাইন ডেস্ক: বলিউডের একসময়কার অন্যতম সুপারহিট নায়িকা মাধুরী দীক্ষিত। তার হাসি ভুবনভোলানো। এ কথা বলেন সবাই। তাইতো তার প্রেমে পড়ে নাকি নিজের অসুস্থ স্ত্রীকেও ভুলে গিয়েছিলেন বলিউডের ‘মুন্না ভাই’ খ্যাত নায়ক সঞ্জয় দত্ত।

বলিউডের যেসব জুটিদের নিয়ে দর্শকদের মধ্যে অন্যরকম উন্মাদনা কাজ করে সঞ্জয়-মাধুরী সেরকমই একটি জুটি। ‘সজন’, ‘থানেদার’, ‘খলনায়ক’সহ একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন তারা।

একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই নাকি ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেস সঞ্জয় দত্ত ও মাধুরী দীক্ষিত। এই ঘনিষ্ঠতা এতটাই ছিল যে, সে সময় সবাই ভেবেছিলেন দুজনে সাত পাকে বাঁধা পড়বেন। ১৯৯১ সালে ‘সজন’ ছবি মুক্তির আগে ও পরে দুজনের প্রেমের সম্প্রক নিয়ে লেখালেখি হয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবং বলিউডের একাধিক পত্রপত্রিকায়। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তারা একসঙ্গে টানা কাজ করেছেন। সঞ্জয় তখন বিবাহিত। স্ত্রী রিচা শর্মা।

ওই সময় মাধুরী একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সঞ্জয়ের মতো ভালো মানুষ হতে পারে না। ওর সঙ্গে কথা বললে সবসময় হাসি পায়। সঞ্জয়ের মন অত্যন্ত উদার। রসিক মানুষ। সঞ্জয়ের মধ্যে কোনো জটিলতা নেই। ব্যাস, এই সাক্ষাৎকারের পরই রটে যায় সঞ্জয় নাকি স্ত্রী রিচা শর্মার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করে মাধুরীকে বিয়ে করতে চলেছেন। সেই সময় আমেরিকায় রিয়ার মস্তিষ্কে টিউমারের চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু মাধুরীর সঙ্গে সঞ্জয়ের ঘনিষ্ঠতা এবং বিয়ের খবর পেয়েই নাকি তিনি মুম্বাইয়ে ফিরে আসেন।

এটা ১৯৯২ সালের কথা। যদিও রিচা সে সময় বলেছিলেন, অনেক দিন সঞ্জয়ের সঙ্গে তার দেখা হয়নি। সঞ্জয় মোটেও তার সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটাতে চান না। তিনিও বিচ্ছেদ চান না। একসঙ্গে কিছুদিন থাকতে ফিরে এসেছেন। এর ১৫ দিনের মাথায় রিচা আবারও নিউ ইয়র্ক ফিরে গিয়েছিলেন। বলিউডে তার স্বামী সঞ্জয় ও মাধুরীকে নিয়ে গুঞ্জন যে সত্যি- এমনই নাকি মনে হয়েছিল রিচার। ‘যাই হোক, আমি পাশে থাকবোই’- সাক্ষাৎকারে এমনই বলেছিলেন রিচা।

রিচার বোন এনা শর্মা একটি সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করে বলেন, রিচা-সঞ্জয়ের সম্পর্ক ভাঙার জন্য মাধুরীই দায়ী। বলেছিলেন, যে নিজের অসুস্থ স্ত্রীকে ছেড়ে যেতে পারে, মাধুরী কীভাবে তেমন কাউকে পছন্দ করলেন। মাধুরী এতটা অমানবিক কী করে হতে পারলেন। যে পুরুষকে চাইবেন, তাকেই তো মাধুরী পেতে পারতেন! আইনি বিচ্ছেদ না হলেও এরপর রিচা আলাদাই থাকছিলেন সঞ্জয়ের থেকে। তবে অনেকেই বলেছিলেন। এত দিন ‘লং ডিসট্যান্স’ বলেই সম্পর্কে অবনতি ঘটে। মাধুরী মোটেও দায়ী নয়। রিচার অসুস্থতার কারণেই নাকি সম্পর্কে বাধা পড়েছিল।

এরপর ১৯৯৩ সালে অস্ত্র আইনে জেলে যেতে হয় সঞ্জয় দত্তকে। মাধুরী একবারও কিন্তু সঞ্জয়ের সঙ্গে দেখা করেননি তখন। বরং দূরেই থেকেছিলেন। সামান্য সময়ের জন্য জামিন পেয়ে সঞ্জয় নাকি একটি সাক্ষাৎকারে দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, মাধুরী তার সহকর্মী। তিনি নাকি ক্ষমাও চেয়েছেন তার সঙ্গে মাধুরীকে জড়িয়ে নানা রকম রটনার ফলে। তবে গুঞ্জন ছিল অন্যরকম, সঞ্জয় নাকি ভেবেছিলেন মাধুরী তার পাশে থাকবেন।

সব সহকর্মীই তার বন্ধু। তাই ঘনিষ্ঠতা দেখে যে কাউকেই সঞ্জয়ের প্রেমিকা বলে দাগিয়ে দেয়া সহজ, তিনি দুঃখপ্রকাশ করে এমনই বলেছিলেন। যদিও মাধুরী এ নিয়ে কখনো কিছু বলেননি। সঞ্জয়ও তার সঙ্গে মাধ্যরীর সম্পর্ক কখনো স্বীকার করেননি।

সঞ্জয়ের প্রথম স্ত্রী রিচা মারা যান ১৯৯৬ সালে। সঞ্জয় এবং রিচার একটি মেয়েও রয়েছে। নাম ত্রিশলা। পরবর্তীতে রিয়া পিল্লাই এবং তারও পরে ২০০৮ সালে মান্যতা দত্তের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন সঞ্জয়। বর্তমানে মান্যতার সঙ্গে সংসার করছেন মুন্না ভাই। অন্যদিকে মাধুরী বিয়ে করেছেন চিকিৎসক শ্রীরাম নেনেকে। ‘ধক ধক’ গার্লও দুই সন্তানকে নিয়ে সুখেই সংসার করছেন।

সোনালী/আরআর

শর্টলিংকঃ