স্কুল-কলেজ বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি হয়নি /আইইডিসিআর

সোনালী ডেস্ক: রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল রোববার জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ৩ জন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) রোগী শনাক্ত হয়েছেন। কোভিড-১৯ আক্রান্ত এই তিন ব্যক্তির মধ্যে দু জন ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে দুজন পুরুষ, অপরজন নারী। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পাবলিক প্লেস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে আইইডিসিআর। তবে দেশে এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেন মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি হয়নি। স্কুল-কলেজ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে আমি সবাইকে পরামর্শ দেবো প্রয়োজন না হলে জনসমাগম হয় এমন জায়গায় যাওয়ার দরকার নেই। দরকার না হলে বাইরে না গিয়ে বাড়িতে থাকাটাই শ্রেয়।
আইইডিসিআর-এর নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আরও জানান, ইতালি থেকে আসা দুজন ভিন্ন পরিবারের সদস্য। তবে তাদের একজন বাসায় আসার পর সে বাসাতেও একজন নারী আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি জানান, জ¦র ও কাশি নিয়ে এই তিন ব্যক্তি গত শনিবার আইইডিসিআরের হট লাইনে যোগাযোগ করে। এরপর গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় তারা পজিটিভ প্রমাণিত হন। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। এছাড়াও আরও দুই ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। তাদের বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আহŸান জানিয়ে তিনি বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে তাদের সঙ্গে দেশ কিংবা বিদেশ থেকে যোগাযোগের জন্য হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। হটলাইন নম্বরগুলো হলো: ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১।
আইইডিসিআর সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ, লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি জাতীয় রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সেক্ষেত্রে আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বরে ফোন করলে বিদেশে কিংবা দেশের বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে তারা। এ বিষয়ে মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, যারা আক্রান্ত দেশ থেকে ভ্রমণ করে এসেছেন এবং যাদের মধ্যে করোনার লক্ষণ জ¦র. কাশি, গলাব্যথা বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ রয়েছে, তারা আমাদের হটলাইনে যোগাযোগ করবেন অথবা নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যাবেন। আইইডিসিআর মহাপরিচালক বলেন, আমরা আক্রান্তদের অনুরোধ করব, আপনারা গণপরিবহন ব্যবহার না করে, আপনারা যদি মৃদু অসুস্থ থাকেন, তাহলে বাড়িতেই থাকুন। আমাদের সঙ্গে হটলাইনে যোগাযোগ করুন। আমাদের টিম আপনাদের বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে এসে পরীক্ষা করবে। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থিত কোনো বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ করলে আমাদের হটলাইনে তা ফোন করে বললে আমরা সেখানেও নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করব। ৪৩টি দেশে স্থানীয় সংক্রমণের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছে জানিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, বাইরের দেশ থেকে আক্রান্ত রোগী দেশে আসার পর ওই রোগীর সংস্পর্শে গিয়ে যারা আক্রান্ত হয়, তাকে স্থানীয় সংক্রমণ বলা হয়। তিনি বিদেশে যাননি কিন্তু বিদেশ থেকে আসা আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে থাকেন, এরকম স্থানীয় সংক্রমণের ইতিহাস রয়েছে ৪৩টি দেশে। এই ৪৩টি দেশের মধ্যে ৩৩টি দেশে আমরা দেখতে পাচ্ছি নতুন রোগী রয়েছে। দশটি দেশে বেশ কিছুদিন ধরে নতুন করে আক্রান্ত হয়নি। ইতালির মতো দেশেও বাড়িতে বসে চিকিৎসা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়িতে বসে চিকিৎসা করা সম্ভব। বাড়িতে যদি আইসোলেশন নিশ্চিত করতে পারে বাড়িতে চিকিৎসা করা সম্ভব। সুতরাং আমরা সাবধান হব, আতঙ্কিত হব না।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। একপর্যায়ে এ ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিøউএইচও)। ইতোমধ্যেই দুনিয়াজুড়ে শতাধিক দেশ ও অঞ্চলের ১ লাখ ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৯ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬০ হাজার ৯০৫ মানুষ।

শর্টলিংকঃ