সেচের রিজার্চ পাননি ডিলাররা, ভোগান্তিতে কৃষক

  • 6
    Shares

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নিয়ামতপুর জোনের ভেন্ডিং ডিলাররা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে রিচার্জ না পাওয়ায় আমনের মাঠে সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার হাজার হাজার আমন চাষী। সোমবার ঈদের পর অফিস খোলা থাকলেও বেলা ১১টার দিকে অফিসে দেখা মেলেনি কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর।

অফিসে ঘন্টার পর ঘন্টা ধর্ণা দিয়েও রিচার্জ পাননি ভেন্ডিং ডিলাররা। এ নিয়ে চরম ক্ষেভের সৃষ্টি হয়েছে ডিলারদের মাঝে। অথচ উদ্ভুত খরা পরিস্থিতিতে এমন একটি স্পর্শকাতর (সেচ) বিষয় নিয়ে যেন মাথাব্যাথা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

কয়েকজন ডিলার ও আমন চাষির সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সপ্তাহ ধরে চলমান খরা বিরাজ করাই হঠাৎ করেই সেচের চাহিদা বেড়ে যায় আমনের জমিতে। ঈদের ছুটি থাকায় এ ক’দিনেই রিচার্জ ফুরিয়ে যায় ভেন্ডিং ডিলারদের। ছুটি শেষে সোমবার অফিস খোলার আশায় থাকেন ডিলার ও চাষিরা। কিন্তু সোমবার অফিস খোলা থাকলেও নিয়ামতপুর বিএমডিএ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুপস্থিতিতে রিজার্চ না পেয়ে ফিরে গেছেন ডিলাররা।

ভেন্ডিং মেশিনে রিজার্চ না পাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে আমন চাষি ও গভীর নলকূপ অপারেটরদের মাঝে। বিদ্যুৎ থাকলেও শুধু রিচার্জের অভাবে বন্ধ হয়ে রয়েছে কিছু কিছু গভীর নলক’প। হঠৎ করেই অনাবৃষ্টির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে আমনের মাঠে। পানি সেচের জন্য কৃষকরা অতিরিক্ত ব্যয়ে পুকুরে শ্যালোমেশিন নিয়ে ছুটাছুটি শুরু করছেন ক্ষেতের ধান বাঁচাতে।

ডিলারদের রিচার্জ না পাওয়ার ঘটনায় মুঠোফেনে যোগাযোগ করা হয় নিয়ামতপুর বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী মতিউর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আমি অফিসের বাইরে আছি কিন্তু অফিসে লোকজন তো থাকার কথা । বিষয়টির খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সোমবার বেলা ১১ টার দিকে অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিসে উত্তোলন হয়নি জাতীয় পতাকা। প্রতিটি কক্ষেই ঝুলছে তালা। অফিসে নেই কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী। লুঙ্গি পরে অফিসের তালা খুলে রিসিপশন রুমের একটি চেয়ারে বসে অফিস জোগাচ্ছেন গৌর চন্দ্র প্রামানিক। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, এখন পর্যন্ত অফিসের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারিই অফিসে আসেননি ।

দেখা হলো রসুলপুর ইউনিয়ন থেকে রিচার্জ নিতে আসা রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, বিএমডিএ নিয়ামতপুরের অনুকুলে রুপালী ব্যাংক হতে পঞ্চাশ হাজার টাকার পে-অর্ডার নিয়ে এসেছেন তিনি। কিন্তু অফিসের কাউকে পাননি মেশিনটি রিচার্জ করার জন্য। বাধ্য হয়েই ফিরে যাচ্ছেন। মেশিনের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছেন অনেক আমন চাষি। সে ফিরলেই নলকুপের প্রি-পেইড মিটারের জন্য কৃষকের কার্ডে রিচার্জ নিয়ে পানি সেচ করবেন তারা। ফিরতে কত সময় লাগবে এমন সংবাদের জন্য কয়েকজন উদ্বিঘ্ন কৃষক মোবাইল ফোনে কলও করেছিলেন তাকে।

কাপাস্টিয়া বাজারের ভেন্ডিং ডিলার বদিউজ্জামান বদি বলেন, অফিস খোলা থাকলেও নতুন নিয়মে সপ্তাহে তিনদিন মাত্র (রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার) রিচার্জ দেয়া হয় ভেন্ডিং ডিলারদের। এ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে ভেন্ডিং ডিলারদের মাঝে। তিনি বলেন, খরা মোকাবেলা করায় ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন রিচার্জ দেয়া উচিৎ কর্তৃপক্ষের। জানা যায়, রিচার্জ পাবেনা এমন সংবাদে ফিরে গেছেন রিচার্জ নিতে আসা ভেন্ডিং ডিলার শাহজাহান শাজুসহ আরও অনেকে।

এ ঘটনায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় বিএমডিএ রাজশাহী হেড অফিসের আইটি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রুবিনা খাতুনের সাথে। তিনি জানান, সোমবার ঈদের ছুটির পর প্রথম অফিস। কেউ ছুটিতে থাকলে অন্য কথা। তাছাড়াও এখন আমনের ভরা মওসুম। খরাও বিরাজ করছে কিছুদিন থেকে। সেহেতু ডিলারদের ভেন্ডিং মেশিনে রিচার্জ দেয়ার জন্য কাউকে না কাউকে তো দায়িত্বে থাকতে হবে। কিন্তু অফিস খোলা থাকলেও রিচার্জ দেয়ার জন্য কেন উপস্থিত নেই ভেন্ডিং রিচার্জ বিভাগের কেউ, এটি তার বোধগম্য নয়। তবে বিষয়টি খোঁজ-খবর নিবেন বলে জানান তিনি।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ