সেই জুয়েলের পরিবারের ৪ দাবি

মো. সহিদুন্নবী জুয়েল

অনলাইন ডেস্ক: লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে পবিত্র কোরআন অবমাননার ভুয়া অভিযোগ তুলে রংপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক শহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ৪টি দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

শনিবার বেলা ১২টার দিকে রংপুর মহানগরীর পূর্ব শালবন এলাকায় জুয়েলের নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো জানানো হয়।

জুয়েলের স্ত্রী বলেন, আমরা ঘটনার পরদিন থেকে বলে আসছি জুয়েল পবিত্র কোরআন আবমাননার সঙ্গে জড়িত নয়। তাই তাকে সরকারের পক্ষ থেকে এই অবমাননার অপবাদ থেকে মুক্তি দিতে হবে। ইতোমধ্যে প্রশাসনিক তদন্ত রিপোর্টে ওইদিন কোরআন অবমাননার কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জুয়েলকে কোরআন অবমাননার অপবাদ থেকে মুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনার সঙ্গে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে, তাও করা হয়েছে। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।

জুয়েলের স্ত্রী আরো বলেন, আমরা আশা করছি, প্রশাসন যেভাবে সক্রিয় আছে,বাকি আসামিরাও শিগগির ধরা পড়বে এবং দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বজনরা জোর দাবি জানিয়ে বলেন, জুয়েলের স্ত্রী, কন্যা, পুত্র গভীর যন্ত্রণা ও মনোবেদনার সঙ্গে সঙ্গে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়েছে। পরিবারটি কীভাবে তাদের সংসার এবং সন্তানদের শিক্ষাখরচ বহন করবে তা ভাবিয়ে তুলছে। প্রধানমন্ত্রী তার অপার উদারতায় অনেক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। আমরা মনে করি, জুয়েলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার মুক্তা একজন গ্র্যাজুয়েট। তাই জুয়েলের স্ত্রীকে একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দিলে তিনি কন্যা ও পুত্রকে নিয়ে আগামী দিনগুলো অতিবাহিত করতে পারবেন।

এছাড়াও জুয়েলের হত্যাকারী খুনিরা যারা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি তাদের গ্রেপ্তারে চলমান প্রক্রিয়া জোরদার করা, দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে জুয়েল হত্যার বিচারসহ ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটি রংপুরে হস্তান্তর করার দাবিও জানানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, নিহত জুয়েলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার মুক্তা, সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, জোবাইদুল ইসলাম বুলেট, রাশেদ রাব্বানী জুয়েল, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও অলোক নাথসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ অক্টোবর লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরআন অবমাননার অভিযোগে তুলে শহীদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে মারে বিক্ষুব্ধরা। পরে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়।

শহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। গত বছর চাকরিচ্যুত হওয়ায় মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

সোনালী/এমই

শর্টলিংকঃ