সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দুর্গম চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ দেয়ার উদ্যোগ

সোনালী ডেস্ক: সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সরকার দেশের সব দুর্গম চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। সেজন্য দেশের ৫০ এলাকায় ৫৩ কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবল নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে দুর্গম এসব এলাকার তালিকা তৈরি করে কাজও শুরু হয়েছে। সরকারের অফগ্রিড এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ৩১৭ কোটি টাকার বড় প্রকল্পে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনে বেশির ভাগ ব্যয় হবে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দেশে অফগ্রিড এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ মনিটরিং করা হচ্ছে। দেশের গ্রিড সংযুক্ত এলাকায় আগামী জুনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহর কাজ শেষ করা হচ্ছে। কিন্তু অফগ্রিড এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিতরণ কোম্পানিগুলো আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। সরকার চাইছে ওই সময়ের মধ্যে গ্রিডের বাইরে যারা রয়েছেন তাদের ঘরেও বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার কাজ শেষ করতে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সম্প্রতি শরীয়তপুরের পদ্মা বেষ্টিত দুর্গম চর নওপাড়া, চরআত্রা ও কাঁচিকাটা ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার ঘরে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। তার আগে গত বছরের ফেব্রæয়ারিতে উপকূল থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের গহীনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছিল। সাগর অতিক্রম করে সাবমেরিন ক্যাবলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার প্রথম প্রকল্পটিই আশা জাগায়। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের অভ্যন্তরের দুর্গম চরে সহজেই এই প্রক্রিয়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব মনে করেই শরীয়তপুরের চরগুলোকে বেছে নেয়া হয়।
সূত্র জানায়, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সাগর অতিক্রম করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে সফল হওয়ার পরই বিতরণ কোম্পানিগুলোকে দুর্গম এলাকার তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তারা ওই তালিকা তৈরির পর দেখা যায় ৫০টি এলাকা রয়েছে সমতলে, যেখানে মাথার ওপর দিয়ে লাইন নির্মাণ করা কঠিন। ওসব জায়গাতে বিকল্প হিসেবে সাবমেরিন ক্যাবেল বসানো যায়। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। আশা করা হচ্ছে চলতি বছরের মধ্যে সব জায়গার কাজ শেষ হবে। সাবমেরিন ক্যাবলের এক প্রান্ত স্থলভাগের একটি সাবস্টেশনে, অন্যপ্রান্ত যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে সেখানের একটি সাবস্টেশনে সংযুক্ত করা হয়। আর চরে বিদ্যুৎ সরবরাহে ওভারহেড লাইন নির্মাণ করা হয়। সাবমেরিন ক্যাবলের স্থায়িত্বকাল সাধারণত ৫০ বছর। ফলে একবার স্থাপন করলে ৫০ বছরের জন্য আর চিন্তা থাকবে না। তবে কতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে তার উপর নির্ভর করে সাবমেরিন ক্যাবলের দর কি হবে। তাছাড়া ওই এলাকায় সাবস্টেশনের ক্ষমতা এবং কত মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হবে তার ওপর প্রকল্প ব্যয় নির্ভর করবে।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে অফগ্রিডে এক হাজার ৮৩টি গ্রাম রয়েছে। তার মধ্যে দুই ধাপে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৪৬টি গ্রাম এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩৩০ গ্রামকে গ্রিডের সঙ্গে জুড়ে দেয়া হবে। যেসব এলাকায় সাবমেরিন ক্যাবল নির্মাণ করা হচ্ছে সেগুলো হলোÑ শরীয়তপুর, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, জামালপুর, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, গাইবান্ধা, কুঁড়িগ্রাম, রাজশাহীর দুর্গম কয়েকটি চরে। মূলত ওই জেলাগুলোর উপর দিয়ে প্রবাহমান নদীতে চর পড়েছে। বহু বছর ধরে ওসব এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠেছে। তবে চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরবরাহ শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিলেও বিদ্যুৎ না থাকাতে সেখানকার মানুষ অনঅগ্রসরই থেকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিস্তৃর্ণ এলাকার মানুষ আয়ের বহুমুখী ধারার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারছে না। ওসব চর সবদিক থেকে জল বেষ্টিত হওয়াতে এখানে সরাসারি গ্রিড পৌঁছানো কঠিন। তাছাড়া ব্যয়সাপেক্ষও। সঙ্গত কারণে ওসব এলাকায় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করা হচ্ছে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে আরইবির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন জানান, সমতলের কোন এলাকাই আর গ্রিডের বাইরে থাকবে না। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে তৃণমূলে বিদ্যুতের সেবা সম্প্রসারিত হবে। যা সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে অতিসম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অফগ্রিড এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে এক বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দ্রæত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়।

শর্টলিংকঃ